দুই বছর পর তিতাসে ফিরল নৌকা বাইচের আবহ, ভাদ্রের রোদে অর্ধলাখ মানুষের ঢল
ভাদ্রের তীব্র দাবদাহ আর তপ্ত রোদ পেছনে ফেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর তীরে নেমেছিল বিপুল জনস্রোত। মাঝিদের সুর তোলা ভাটিয়ালি গান, কাঁসার বাদ্য আর পানিতে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে প্রায় দেড় কিলোমিটার নদীপথ রূপ নিয়েছিল লোকজ সংস্কৃতির মহোৎসবে। টানা দুই বছরের বিরতি শেষে নদীপাড়ে ফেরা ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ উপভোগ করতে তিতাসের দুই কূলে আছড়ে পড়েছিল অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক আনন্দমুখর মানুষ।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিতাস নদীর বুকজুড়ে বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতির কারণে গত ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ঐতিহ্যবাহী এই আসর বসানো সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবারের নৌকা বাইচকে ঘিরে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তৈরি হয় ভিন্ন এক আমেজ।বিকেল সাড়ে ৩টায় তিতাসের শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্টে রঙিন বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার সূচনা করা হয়। উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।উদ্বোধনের পর পর শিমরাইলকান্দি থেকে শুরু হয়ে রঙিন পোশাকে সুসজ্জিত ১০টি দল ছুটে চলে মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার পয়েন্টের দিকে। তিতাসের বুকে নৌকা ছুটে চলার সাথে সাথে দুই তীরে দাঁড়িয়ে থাকা আবালবৃদ্ধবনিতা সুর মেলান মাঝিদের সাথে—‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো!’ বহুতল ভবনের ছাদ, নদীর ঘাট এবং অসংখ্য নৌকা ও ট্রলারে চেপে দর্শনার্থীরা রোমাঞ্চকর এই লড়াই উপভোগ করেন।কঠিন বাছাই পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে লড়াই করে চারটি দল। এতে সেরা হয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ‘শাপলা ভয়েস ক্লাব’ এবং তারা তুলে নেয় ২ লাখ টাকার নগদ পুরস্কার। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জেলা সদরের ‘দারমা গ্রামের নৌকা’ (পুরস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে নবীনগরের ‘পুইল যুব সংঘ’ (পুরস্কার ১ লাখ টাকা)। এ ছাড়া অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে সান্ত্বনা হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নগদ এবং স্মারক ট্রফি প্রদান করা হয়।[TECHTARANGA-POST:1246]পরে বিজয়ী ও বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ এবং পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) রোমানা আক্তার এবং চিকিৎসক মো. আবদুল মতিনের যৌথ সঞ্চালনায় জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনের পর্দা টানে।