মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৬২.২৫%, কমেছে জিপিএ-৫

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এবার দেশজুড়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কম। ২০২৫ সালে এই পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।একই সঙ্গে এ বছর সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে, একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি—এমন শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ সারা দেশে এবার মোট ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।এ বছর সারা দেশে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে এবারও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র এবং ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া বিভাগভিত্তিক ফলাফলে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের তুলনায় বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের প্রাধান্য বজায় রয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর সারা দেশে মাত্র ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান কমেছে ৩১৫টি।অন্যদিকে, দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। অর্থাৎ এক বছরে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৭৮টি। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিল মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থী। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়।সাধারণ শিক্ষা বোর্ড (৯টি): মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। সবচেয়ে বেশি ৫০০টির বেশি কেন্দ্র ছিল ঢাকা বোর্ডে (৫১০টি) এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বোর্ডে (১৮৮টি)।মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী। এদের জন্য কেন্দ্র ছিল ৭৪২টি।কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী। কেন্দ্র ছিল ৬৫৩টি।উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। পরবর্তীতে ২৪ মে পর্যন্ত দাখিল ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন।[TECHTARANGA-POST:1096]ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো পরীক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে চাইলে আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৬২.২৫%, কমেছে জিপিএ-৫