লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ: বিজিবির বাধায় ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল ভারত, সীমান্ত জুড়ে সতর্কতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার চারটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের (অনুপ্রবেশ) বড় একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের শূন্যরেখায় জোরপূর্বক জড়ো করা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৩৩ জনকে শুক্রবার রাতে ও আজ শনিবার ভোরে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। এই ঘটনার পর থেকে জেলার পুরো সীমান্ত জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। অন্যদিকে, সীমান্তের ওপারে অতিরিক্ত বিএসএফ সদস্য মোতায়েন করে অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা গেছে।বিজিবি, সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট সীমান্তের ১০ গজ ভেতরে বাংলাদেশ-ভারতের অধিনায়ক পর্যায়ে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তের প্রধান পিলার ৯১২ নম্বরের ২ নম্বর উপপিলারের কাছে আয়োজিত এই বৈঠকে বিজিবির আহ্বানে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম এবং ৭৮ বিএসএফের শ্রী মনোজ কুমার ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্টসহ উভয় দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সীমান্তের শূন্যরেখায় ঠেলে নিয়ে আসা লোকেদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রথমে সীমান্তসংলগ্ন লাইট বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে জড়ো করা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়া হয় :আদিতমারী সীমান্ত : আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কাউয়ারচর ও কুঠিবাড়ি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৭ জন এবং একই উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের শ্রীলঙ্কাপাড়ার শূন্যরেখা থেকে ৫ জনকে ফেরত নেওয়া হয়।হাতীবান্ধা সীমান্ত : হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বুড়াসারডুবি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১১ জনকে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।পাটগ্রাম সীমান্ত : আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকার বিপরীতে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মাথাভাঙ্গা থানার পানিশালা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে বাকি ১০ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা।অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার প্রধান পিলার ৮৪৬-এর কাছে ভারতের পানিশালা সীমান্ত দিয়ে ৫ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ২ জন ছেলে শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। একই দিনে হাতীবান্ধার বড়খাতা সীমান্তে ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোটমধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা ৩ জন পুরুষ ও ৮ জন নারীকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। এছাড়া আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ৭৮ বিএসএফের পদ্মা ক্যাম্প এবং মদনাকুড়া ক্যাম্পের টহল দল বেশ কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশ ইনের চেষ্টা চালালে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের কড়া বাধার মুখে পড়ে তারা।[TECHTARANGA-POST:814]এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান বলেন, সব সীমান্তের আশপাশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই বাংলাদেশের মাটিতে পুশ ইন হতে দেব না।তিনি আরও যোগ করেন, যেসব সীমান্তে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার প্রত্যেকটির ব্যাপারে আমরা গ্রাউন্ড লেবেল (মাঠপর্যায়) কমান্ডার ও সিও—সব পর্যায়ে বিএসএফের সাথে কথা বলেছি। আমরা তাদের শক্তভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে এভাবে পুশ ইন করা যাবে না। কোনো প্রত্যাবাসন করতে হলে দ্বিপাক্ষিক নির্ধারিত নিয়মাবলি ও স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, যা উভয় দেশের জন্য সহজ হবে। বর্তমানে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি রাখছেন।