মৌলভীবাজারে মনু নদের বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে মনু নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি হয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে করে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ধলাই নদীর উজানে পানি কিছুটা কমলেও নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান ও সবজিখেত।মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে মনু নদের পানি বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর একটি স্থানে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে এবং নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মনু নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো মেরামতের জন্য সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙনে গত বৃহস্পতিবার কমলগঞ্জের আদমপুর, ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বর্তমানে উপজেলার নিম্নাঞ্চল শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।এদিকে, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর নামক স্থানে বাঁধ ভাঙার কারণে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে তারাপাশা-টেংরা সড়কসহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন যাতায়াতের সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।বন্যা পরিস্থিতির কারণে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৯৫টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বিপুল সিকদার জানান, বন্যায় রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাকসহ কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। আমাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:993]জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত চার উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দি থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব পাওয়া যাবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।