শৈলকুপায় পেঁয়াজ তোলার ধুম, বাম্পার ফলনেও বৃষ্টির শঙ্কায় কৃষকের চোখে ঘুম নেই
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন কেবলই পেঁয়াজ তোলার ব্যস্ততা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়াই অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও হঠাৎ বৃষ্টির আশঙ্কা এবং বাজারের অস্থিতিশীল দাম নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।সরেজমিনে উপজেলার উমেদপুর, দিগনগর, ধাওড়া ও মহিষাডাঙা মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা মাঠেই সময় কাটাচ্ছেন। নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও পেঁয়াজ সংগ্রহে হাত বাড়িয়েছে। কেউ বস্তাভর্তি পেঁয়াজ মাথায় করে বাড়ি নিচ্ছেন, আবার কেউ ভ্যান বা গরুর গাড়িতে করে পরিবহনে ব্যস্ত। সবার লক্ষ্য একটাই—বৃষ্টি নামার আগেই সোনার ফসল ঘরে তোলা।[TECHTARANGA-POST:290]স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এ বছর আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন্য ছিল অত্যন্ত উপযোগী। প্রতি বিঘায় গড়ে ৮০ থেকে ১০০ মণ পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি কিছু কিছু মাঠে ফলন ১৫০ মণ পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। কৃষক আব্দুল হান্নান জানান, ফলন তো খুব ভালো হয়েছে, কিন্তু ভয় হচ্ছে বৃষ্টি নিয়ে। একবার যদি ক্ষেতে পানি জমে বা পেঁয়াজ ভিজে যায়, তবে সব শেষ। ভেজা পেঁয়াজ বাজারে কেউ নিতে চায় না, নিলেও দাম পাওয়া যায় না।ভালো ফলনের আনন্দ থাকলেও বাজারদরের ওঠানামা কৃষকদের ভাবিয়ে তুলছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরাও। স্থানীয় আড়তদাররা জানান, যারা আগাম পেঁয়াজ কিনে মজুত করেছেন, তারা এখন লাভ-লোকসানের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারের এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কৃষক ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় আছেন।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সব মিলিয়ে বাম্পার ফলনের হাসি থাকলেও প্রাকৃতিক ঝুঁকি আর বাজারের অনিশ্চয়তা শৈলকুপার পেঁয়াজ চাষিদের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট করে তুলেছে।