ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদন: বাংলাদেশে ইন্টারনেট স্বাধীনতায় বড় অগ্রগতি, পয়েন্ট বেড়ে ৫০
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র ও অধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ফ্রিডম হাউস’-এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতা পরিস্থিতিতে লক্ষণীয় অগ্রগতির তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদন ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৬’-এ দেখা গেছে, ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫০-এ উন্নীত হয়েছে। বিশ্বের ৩৮টি পর্যবেক্ষণকৃত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নতি প্রদর্শন করেছে। সংস্থাটির ১৫তম এই বার্ষিক গবেষণায় ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের দেশের অনলাইন পরিবেশ মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফ্রিডম হাউস জানায়, দীর্ঘ আট বছর পর (২০১৬ সালের পর) এই প্রথম পুরো এক বছরে বাংলাদেশে কোনো ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধের ঘটনা ঘটেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের ডিজিটাল দমন-পীড়নের সঙ্গে এই সময়কাল একটি স্পষ্ট ইতিবাচক বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণ-আন্দোলনের মুখে ইন্টারনেট মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তবে নতুন সরকারের অধীনে এই গণতান্ত্রিক উত্তরণকে টেকসই করা এবং অনলাইন ব্যবহারকারীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ফ্রিডম হাউসের মূল্যায়নে ইন্টারনেটে প্রবেশের বাধা অংশে বাংলাদেশের স্কোর পূর্বের ১২ থেকে বেড়ে ১৬ হয়েছে। অনলাইন বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে স্কোর ২০ থেকে সামান্য বেড়ে ২১ হলেও ব্যবহারকারীর অধিকার লঙ্ঘনের জায়গায় স্কোর ৪০-এর মধ্যে ১৩-তেই স্থির রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে দুর্বল দিক বলে চিহ্নিত হয়েছে। সার্বিক স্কোরের বিচারে বাংলাদেশ ২০১৩ সাল থেকেই 'আংশিক স্বাধীন' শ্রেণিতে অবস্থান করছে। বৈশ্বিক চিত্রে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে টানা ১৬ বছর ধরে ইন্টারনেটের স্বাধীনতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। মূল্যায়ন করা ৩৮টি দেশের মধ্যে ১৬টিতে অনলাইন স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশসহ ৮টি দেশে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবনতি ঘটেছে ইরানে, আর চীন ও মিয়ানমারে ইন্টারনেট পরিবেশ এখনো সবচেয়ে দমনমূলক। তালিকার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এস্তোনিয়া।[TECHTARANGA-POST:1420] প্রতিবেদনের প্রধান লেখক কিয়ান ভেস্তেইনসন এবং ফ্রিডম হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমি ফ্লাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি অবাধ ও উন্মুক্ত অনলাইন পরিবেশ গঠনে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।