সুন্দরবনের ডিমের চরে ৪ কিলোমিটার জুড়ে প্রাকৃতিক ধান, গবেষণায় কৃষি বিভাগ
বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের সংযোগস্থল মোহনার সুদূর ‘ডিমের চরে’ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে অতিমাত্রায় লবণসহিষ্ণু এক অপূর্ব ধানের বসতি। সুন্দরবনের শেষ সীমানায় অবস্থিত এই সুবিশাল চরে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, মায়া হরিণ ও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই বিশেষ ধান। স্থানীয়ভাবে ‘ধানসী’ নামে পরিচিত এই গাছের চাল ও শীষ পাখির প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পেকে নিচে পড়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবারও নতুন গাছের জন্ম দিচ্ছে।প্রকৃতির এই অনন্য সৃষ্টি মানুষের খাবার হিসেবে কতটা ব্যবহারযোগ্য এবং এর পুষ্টিগুণ কেমন, তা নিয়ে ব্যাপক গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।ডিমের চরের কচিখালী স্টেশন কর্মকর্তা চন্দন জানান, বাঘ ও হরিণের বিচরণক্ষেত্র এই চরটি মূলত পাখিদের অভয়ারণ্য। কোনো ধরনের মানব ছোঁয়া ছাড়াই চার কিলোমিটারজুড়ে ঈশ্বরপ্রদত্ত নিয়মে এই ধানসী জন্মায়। বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক ধানগাছের সব বৈশিষ্ট্য থাকলেও এর উৎপাদন হার তুলনামূলক কম। স্থানীয় জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধান দেখে আসছেন এবং কচি অবস্থায় এতে দুধ আসা ও পাকার পর চাল হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন। তবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হওয়ায় আইনগত কারণে বনজ এই উপাদান কাটার সুযোগ নেই।বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেন জানান, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে। অতিমাত্রার লবণাক্ততায় টিকে থাকা এই জাতের জিনগত বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য নতুন কোনো উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব কি না, গবেষকরা তা পরীক্ষা করছেন।[TECHTARANGA-POST:1345]তবে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রিফাত জাহান উষা ভিন্ন মত প্রকাশ করে জানান, এটি ঘাস বা তৃণজাতীয় (Poaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ হতে পারে, যা সাধারণত 'স্মুথ কর্ডগ্রাস' বা 'স্পার্টিনা অল্টার্নিফ্লোরা' নামে পরিচিত। উপকূলের নিচু কাদা ও নোনা জলাভূমিতে এই ঘাস ঘন হয়ে জন্মায় এবং দেখতে ধানক্ষেতের মতো লাগে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক না হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো চাষযোগ্য ধান কি না—তা বিস্তারিত ল্যাব পরীক্ষার পর চূড়ান্ত বলা যাবে।