ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচটা লুফে নিয়েই যেভাবে বাতাসে লাফিয়ে উঠলেন মোহাম্মদ আব্বাস, তা দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক দমবন্ধ দমকা হাওয়া থেকে বাঁচল পাকিস্তান ক্রিকেট দল! সাজিদ খানের বলে নিজের প্রিয় স্লগ সুইপ করতে গিয়ে যখন মুশফিকুর রহিম ধরা পড়লেন, তখন পাকিস্তানি বোলারদের স্বস্তির নিঃশ্বাসটাই ছিল আজকের দিনের সবচেয়ে বড় গল্প।শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের মতো লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা দ্রুত ফিরলেও, উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানকে নাচিয়ে ছাড়ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক। শেষ ব্যাটার হিসেবে তিনি যখন মাঠ ছাড়ছেন, বাংলাদেশের নামের পাশে তখন ৩৯০ রানের পুঁজি।প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডসহ পাকিস্তানের সামনে এখন জয়ের টার্গেট দাঁড়িয়েছে পাহাড়সম ৪৩৭ রান। সিলেটের এই ভাঙা উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে এত রান তাড়া করে ম্যাচ বাঁচানো তো দূরের কথা, জেতার কথা ভাবাও যেন অলৌকিক কিছু।[TECHTARANGA-POST:688]যদি পাকিস্তান এই ম্যাচ জিততে পারে, তবে তা হবে তাদের টেস্ট ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জেতার নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার গলে ৩৭৭ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা। আজ সিলেটে জিততে পারলে দীর্ঘ ১১ বছরের সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়বে বাবর আজমরা।সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ইতিহাস বলছে, চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড এখানে মাত্র একটিই। গত বছর এই মাঠে বাংলাদেশের দেওয়া ১৭৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে।[TECHTARANGA-POST:675]তবে ৪৩৭ রানের এই হিমালয়সম লক্ষ্য পাড়ি দেওয়া জিম্বাবুয়ের সেই লক্ষ্যের চেয়ে আকাশ-পাতাল তফাত। সিলেটের স্পিন ফ্রেন্ডলি পিচে এখন বল হাতে নামার অপেক্ষায় টাইগার বোলাররা। ইতিহাস কি বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলবে, নাকি পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে গড়ে ফেলবে নতুন কোনো রেকর্ড—তার উত্তর মিলবে আগামী দুদিনেই।ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড (সিলেট টেস্ট)বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮/১০(৭৭.০ ওভার)বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০/১০ (১০২.২ ওভার)মুশফিকুর রহিম — ১৩৭খুররাম শাহজাদ — ৩/৮৬পাকিস্তান ১ম ইনিংস:২৩২/১০(৫৭.৪ ওভার)বাবর আজম— ৬৮নাহিদ রানা— ৩/৬০পাকিস্তান ২য় ইনিংস:০/০(২.০ ওভার)পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য: ৪৩৬