টানা তৃতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরার স্বপ্ন পূরণ হলো না বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। অষ্টম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের মহাগুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হেরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গত দুই আসরের টানা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ আজ হেরে গিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের এক ঐতিহাসিক সুযোগ মিস করল।শনিবার (৬ জুন) ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে স্বাগতিক ভারত। বাংলাদেশ দলের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেলা জমিয়ে তুললেও গোল করার একাধিক সুবর্ণ সুযোগ মিস করে। যার ফলে প্রথমার্ধের প্রথম ৪০ মিনিট কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্তে এসে লড়াইটি রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়।ম্যাচের ৪২ মিনিটে প্রথম গোল করে স্বাগতিক ভারতকে এগিয়ে নেন পেয়ারি জাজা। তাকে আটকাতে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার সুরভী আকতার ছুটে গেলেও তার গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হয়। ওই সময় বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তার অনেকটা সামনে এগিয়ে থাকায় বলটি তার মাথার ওপর দিয়ে ভাসতে ভাসতে জালে জড়িয়ে যায় (১-০)। তবে এক গোল পিছিয়ে পড়েও ভেঙে পড়েনি বাংলাদেশ। মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫ মিনিট) দুর্দান্ত এক গোল করে লাল-সবুজ শিবিরে সমতা ও স্বস্তি ফেরান ঋতুপর্ণা (১-১)।১-১ স্কোরে বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয় ফিজিক্যাল অর্ধে খেলা শুরুর মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় চরম এক ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ভারতীয় ফরোয়ার্ড পেয়ারি জাজার বাড়ানো চমত্কার এক ক্রসে নিখুঁত হেড নিয়ে গোল নিশ্চিত করেন সানফিদা (২-১)। দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পর গোল পরিশোধ করতে মরিয়া হয়ে লড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু গোল শোধ করা তো দূরে থাক, উল্টো ম্যাচের ৮৩ মিনিটে তৃতীয় গোলটি হজম করতে হয় পিটার বাটলারের শিষ্যদের। বাংলাদেশের এলোমেলো ও অসতর্ক রক্ষণের সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ভারতের ফরোয়ার্ডরা স্কোরলাইন ৩–১ করেন। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-১ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।[TECHTARANGA-POST:814]প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নারী দল সাফে প্রথম ফাইনাল খেলেছিল ২০১৬ সালে ভারতের শিলিগুড়িতে, যেখানে ভারতের কাছেই হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল। এরপর ২০১৮ ও ২০২০ আসরের ফাইনালে উঠতে পারেনি দল। তবে ২০২২ ও ২০২৪ সালে কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে টানা দুবার স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে, আজকের এই জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের আট আসরের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়ল ভারত। হ্যাটট্রিক মিস হলেও বাঘিনীদের এই লড়াইকে সাধুবাদ জানাচ্ছে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।