মির্জাপুরে মহেড়া স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যাহত
যমুনা সেতু রেল সংযোগপথের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেলস্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া নীলফামারীগামী ‘নিলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ট্রেনটির বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।মহেড়া স্টেশন সূত্র জানায়, প্রায় এক হাজার যাত্রী ধারণক্ষমতার নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মূল লাইন দিয়ে মহেড়া স্টেশন অতিক্রম করার সময় এর গার্ড ব্রেকের (শেষ বগি) চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে চালক বুঝতে পেরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ট্রেনটি থামিয়ে দেন।খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মহেড়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শাহিন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, ট্রেনের চাকার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই মূলত গার্ড ব্রেকের অংশটি লাইনচ্যুত হয়েছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও যাত্রীদের বেশ কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পাশাপাশি রেললাইনের পয়েন্টের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।দুর্ঘটনার পর উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ট্রেন আটকে পড়ে। দুপুরের দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রাজশাহী কমিউটার’ ট্রেন টাঙ্গাইল স্টেশনে এবং মির্জাপুর স্টেশনে লালমনিরহাটগামী ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ ট্রেন আটকা পড়ার খবর পাওয়া যায়।[TECHTARANGA-POST:1444]দুর্ঘটনা কবলিত বগি অপসারণ ও লাইন স্বাভাবিক করার বিষয়ে স্টেশনমাস্টার জানান, ঈশ্বরদী থেকে একটি বিশেষ রিলিফ ট্রেন এসে লাইনচ্যুত বগিটি পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। তবে এর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি পেছনে রেখেই নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া বিকল্প লুপ লাইন (মূল রেল পথের পাশের বিকল্প লাইন) ব্যবহার করে আটকে থাকা ট্রেনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।