মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

বাংলা থালির স্বাদ: ঐতিহ্যের খোঁজে এক মহাকাব্যিক ভোজ

বাংলা স্বাদ!—এই কথাটা শুনলে অনেকে হয়তো হেসে ফেলেন। আমাদের কি আসলেই কোনো স্বতন্ত্র বাংলা স্বাদ আছে? মধুমাস শেষে প্রখর রৌদ্রজ্জ্বল গ্রীষ্মের দুপুরে যখন থালায় সাজানো থাকে একঘেয়ে খাবার, তখন আমাদের মনে পড়ে সেই প্রচলিত প্রবাদ—থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়। অর্থাৎ, প্রতিদিনের একঘেয়েমি। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এই একঘেয়েমি ভাঙার চাবিকাঠি তো আমাদের রান্নাঘরেই আছে?সেই হারিয়ে যাওয়া নাম, সেই স্বাদআমাদের ধানের বৈচিত্র্য বা চালের নামগুলো শুনলে এখনো কাব্য মনে হয়। বাদশাভোগ, ঝিঙেশাইল, রাঁধুনিপাগল, কাটারিভোগ, দুধকলম—প্রতিটি চালের স্বাদে আছে ভিন্নতা। অথচ আমরা এখন সাদা চালের ভিড়ে সেই মহিমা হারিয়ে ফেলেছি। ইলিশ মাছের কথা তো বলাই বাহুল্য। জিরে ফোড়ন দেওয়া ঝোল কিংবা শুধু পেঁয়াজ-কাঁচা মরিচের মাখামাখি—প্রতিটি রান্নায় ইলিশ যেন নতুন নতুন ছন্দে ধরা দেয়।ভর্তার নান্দনিকতাআমাদের আলুর ভর্তার কথাই ধরুন। আজ সকালে যে ভর্তাটি খেয়েছেন, তার স্বাদের বৈচিত্র্য কি খেয়াল করেছেন? শুকনো মরিচ দিয়ে মাখানো সেদ্ধ আলু, ডিম-আলুর যুগলবন্দি, কিংবা মাটির চুলায় ঝলসানো ছোট আলুর ভর্তা—এক একটির স্বাদ যেন এক এক ধরনের কবিতা!একটি আদর্শ বাংলা থালিগ্রীষ্মের দুপুরে সব ক্লান্তি মুছে দেওয়ার জন্য একটি আদর্শ বাংলা থালি হতে পারে এমন :মাঝখানে সুগন্ধি চালের ধোঁয়া ওঠা ভাত।এক ফালি টাটকা কাগজি লেবু।ঘন ডাল, আর সঙ্গে পছন্দমতো মাছের ঝোল।উচ্ছে ভাজা বা পটোলের জোড়া ফালি।মাছের মাথা দিয়ে রান্না করা সুগন্ধি মুড়িঘন্ট।সবজির লাবড়া বা ঘন ঘন্ট।সবার শেষে কড়া পাকে রান্না করা ঘন দুধের পায়েস।মাংসের ভারী আয়োজন না থাকলেও, এই থালির স্বাদই বলে দেবে—বাংলা থালির স্বাদ আসলে কারে কয়!

বাংলা থালির স্বাদ: ঐতিহ্যের খোঁজে এক মহাকাব্যিক ভোজ