মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

বাবা শব্দের আড়ালে এক নিঃশব্দ বটবৃক্ষ: আজ বিশ্ব বাবা দিবস

বাবা শব্দটির অর্থ হয়তো পিতা বা জন্মদাতা, কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় এই দুটি অক্ষরের ব্যাপ্তি আকাশছোঁয়া। বাবা মানে এক টুকরো তপ্ত দুপুরে শীতল ছায়া, বাবা মানে ঝড়ের রাতে মাথার ওপর আস্থার এক মজবুত ছাদ, আর সন্তানের জীবনের প্রথম সুপারহিরো। প্রতিটি সন্তানের জীবনে বাবার এই নিঃশব্দ ত্যাগ, সীমাহীন দায়িত্ববোধ আর কোনো শর্ত ছাড়া ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে আজ রোববার (২১ জুন) বিশ্বজুড়ে গভীর মমতায় উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস।বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ প্রবাসে কিংবা স্বদেশে থাকা সন্তানরা নানা আয়োজনে বাবাকে স্মরণ করছেন। কেউ উপহারের মোড়কে, কেউ ডিনার টেবিলে, আবার কেউবা কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবার হাত ধরার পুরোনো কোনো ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখছেন মনের গহীনের কৃতজ্ঞতা।মায়েদের জন্য বছরে একটি নির্দিষ্ট দিন থাকলে, বাবাদের জন্য কেন থাকবে না? —এক শতক আগে ঠিক এই জেদ আর বাবার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা থেকেই শুরু হয়েছিল আজকের এই দিবসের পথচলা।ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯০৮ সালে আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে প্রথম বাবাদের স্মরণে একটি অনুষ্ঠান হলেও, এটিকে বৈশ্বিক রূপ দেওয়ার কৃতিত্ব ওয়াশিংটনের এক সাধারণ নারী সোনোরা স্মার্ট ডড-এর। সোনোরা যখন খুব ছোট, তখন তাঁর মা মারা যান। এরপর তাঁর বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট একা হাতে, পরম মমতায় ছয়টি সন্তানকে বড় করে তোলেন। মায়ের অভাব বুঝতে না দিয়ে বাবার এই যে জীবনসংগ্রাম, তা সোনোরাকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বাবাদের ত্যাগেরও একটা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রয়োজন। তাঁর এই জোরালো দাবির মুখে ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম অফিশিয়ালি বাবা দিবস পালন শুরু হয়।আমেরিকার সাধারণ মানুষের হাত ধরে শুরু হওয়া এই দিবসটি পরবর্তীতে দেশটির সরকার ও আইনসভার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় :কংগ্রেসের উদ্যোগ (১৯১৩): মার্কিন কংগ্রেসে প্রথমবার এটিকে জাতীয় দিবস করার প্রস্তাব তোলা হয়।প্রেসিডেন্টের সমর্থন (১৯২৪): তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ এই দিবস উদযাপনে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করেন।জুন মাসের ঐতিহ্য (১৯৬৬): প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন ঘোষণা করেন, প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববারই হবে বাবা দিবস।চূড়ান্ত আইন (১৯৭২): সবশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এই সংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করে বাবা দিবসকে আমেরিকার একটি স্থায়ী জাতীয় দিবসের মর্যাদা দেন।আমেরিকার সেই আইনি স্বীকৃতি আজ গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও স্থান ও সংস্কৃতির ভেদে কিছু দেশে অন্য তারিখেও এটি উদযাপিত হয়, তবে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ প্রান্তেই জুন মাসের এই তৃতীয় রোববারটি বাবাদের জন্য বরাদ্দ।[TECHTARANGA-POST:925]জীবিকার তাগিদে কিংবা সময়ের নিয়মে আমরা অনেকেই আজ বাবাদের থেকে দূরে থাকি, কিংবা এক ছাদের নিচে থেকেও হয়তো মন খুলে দুটো কথা বলা হয় না। বাবা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাবারা কখনো সন্তানের কাছে মুখে ফুটে কিছু চান না, শুধু চান একটুখানি সময় আর এক চিলতে হাসি। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও আজকের এই বিশেষ দিনটিতে একবারের জন্য হলেও বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে কিংবা মুঠোফোনের ওপার থেকে শক্ত করে বলুন— বাবা, তুমি আছ বলেই আমি আজ এতটা পথ পেরোতে পেরেছি। তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’

বাবা শব্দের আড়ালে এক নিঃশব্দ বটবৃক্ষ: আজ বিশ্ব বাবা দিবস