৪০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বিশ্বকাপ ফুটবলে ফিরছে লায়ন্স অব মেসোপটেমিয়া
চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা, যুদ্ধের বিভীষিকা আর সীমাহীন রক্তক্ষয় ছাপিয়ে ফুটবলের জাদুতে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে পুরো ইরাক। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর এই প্রথম ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ’-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে ইরাক জাতীয় দল। এই ঐতিহাসিক অর্জনকে বরণ করে নিতে আজ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী বাগদাদসহ পুরো দেশ।মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আকাশপথের সীমাবদ্ধতার কারণে ফুটবলাররা মেক্সিকো থেকে সরাসরি ফিরতে পারেননি। জর্ডান হয়ে সড়কপথে দেশে ফেরে পুরো দল। সীমান্তে প্রবেশের পর থেকেই প্রিয় খেলোয়াড়দের এক নজর দেখতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। রামাদির রাজপথে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যখন ফুটবলারদের বহনকারী বাসটি এগোচ্ছিল, তখন সমর্থকদের গগনবিদারী স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ।[TECHTARANGA-POST:311]ইরাকের এই জয় কেবল মাঠের সাফল্য নয়, বরং এটি দীর্ঘকাল সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বে বিভক্ত থাকা শিয়া, সুন্নি ও কুর্দিদের মাঝে ঐক্যের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। উৎসবে মেতে ওঠা এক সমর্থক আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, আমরা এই দিনটির জন্য ৪০ বছর অপেক্ষা করেছি। আজ আমাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই; আমরা আজ শুধুই ইরাকি। ফুটবল আমাদের সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে।বিশাল শোভাযাত্রা শেষে ফুটবলাররা বাগদাদে পৌঁছালে তাদের রাজকীয় সংবর্ধনা দেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ শিয়া আল সুদানি। প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইরাক ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান আদনান দিরজাল সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এই অর্জনকে ইরাকের পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।