মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

বড় বদল আসছে করকাঠামোতে : মানুষের ওপর চাপ নাকি ফাঁকি রোধ?

বিশাল অর্থনৈতিক সংকটের মুখে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে নতুন সরকার। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটানোর তাগিদ—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঁধে এখন পর্বতসমান চাপ। এই চাপ সামলাতে দেশের করকাঠামোতে এক আমূল পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের নীতি-নির্ধারণী মহলে দফায় দফায় সিদ্ধান্ত বদল হচ্ছে।তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এমনিতেই বাজারে নিত্যপণ্যের আগুন, তার ওপর যদি করের বোঝা আরও ভারী করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বাজার অস্থিরতা দুই-ই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে।টেকনোলজি ও ল্যাপটপে কী প্রভাব পড়ছে?আইটি সেক্টর এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি স্বস্তির খবর হলো—স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং কম্পিউটার যন্ত্রাংশের ওপর ভ্যাট মওকুফ সুবিধা আগামীতেও বহাল থাকছে। তবে যারা বিদেশি বা আমদানিকৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও টোনার কিনতে চান, তাদের পকেট এবার ভারী কাটতে পারে; কারণ এগুলোর ওপর শুল্ক কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।চালু হচ্ছে সম্পদ কর, মৌজা রেটে হবে হিসাব!সারচার্জ ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সরকার এবার সরাসরি সম্পদ কর চালুর চূড়ান্ত রিভিউ করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সম্পদের মূল্য নির্ধারণ হবে বর্তমান বাজার ও মৌজা রেটের ভিত্তিতে। যার ৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার সম্পদ থাকবে, তাকে মোট মূল্যের ০.৫০% সম্পদ কর দিতে হতে পারে। তবে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ সতর্ক করে বলেছেন, সম্পদ কর আরোপ করা যতটা আকর্ষণীয় মনে হয়, মাঠে আদায় করা ততটা সহজ না। এতে অনেক মধ্যবিত্ত কষ্টে পড়তে পারেন।বাইক ও অটোরিকশায় অগ্রিম আয়কর (AIT)—মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য থাকছে বড় ধাক্কা। ১১০ সিসির ওপরের সব বাইকের জন্য সিসি অনুযায়ী অগ্রিম আয়কর গুণতে হবে :১১১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি: ২,০০০ টাকা।১২৬ সিসি থেকে ১৬৫ সিসি: ৫,০০০ টাকা।১৬৫ সিসির বেশি: ১০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর।পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও এবার অগ্রিম করের আওতায় আসছে।ব্যবসা, বিনোদন ও অন্যান্য খাতের নতুন নিয়ম :ব্যবসা ও ভ্যাট : ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হলে এখন থেকে ভ্যাট নিবন্ধন সনদ (BIN) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মুদি দোকানকেও ভ্যাটের আওতায় আনা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও এবার অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক হচ্ছে।সিগারেট : সিগারেটের ওপর নতুন কর না বসলেও শলাকা প্রতি দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত।বিনো দন কর : স্টেডিয়ামে খেলা দেখা, নাটক বা কনসার্ট (গানের অনুষ্ঠান) দেখতে গেলেও এখন বাড়তি কর দিতে হবে।সুখবর : পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ বিতরণের ওপর থাকা ১০ শতাংশ উৎসে করের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে। এছাড়া করমুক্ত আয়সীমা (বর্তমানে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) সামান্য বাড়তে পারে।এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিনের মতে, কর বাড়ানোর চেয়ে বড় দরকার পাচার হওয়া টাকা রোধ করা। টাকা দেশে থাকলে বিনিয়োগ ও কর দুটোই আসতো। এখন ঢালাও করছাড়ের সুবিধা বাতিল করে অটোমেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানোই সরকারের একমাত্র বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বড় বদল আসছে করকাঠামোতে : মানুষের ওপর চাপ নাকি ফাঁকি রোধ?