বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দাপুটে জয়! হাইতির জালে প্রথমার্ধেই ৩ গোল ভিনি-কুনহাদের
ফুটবলবিশ্ব যে চিরচেনা আক্রমণাত্মক ও শৈল্পিক ব্রাজিলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, ফিলাডেলফিয়ার বুধবারের রাতে যেন ঠিক সেই চেনা সাম্বা ফুটবলেরই দেখা মিলল। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর যে তীব্র হতাশা গ্রাস করেছিল সেলেসাও শিবিরকে, তা যেন হাইতির ওপর একপ্রকার তাণ্ডব চালিয়েই উসুল করে নিল কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধের মাত্র ৪৫ মিনিটের এক বিধ্বংসী ঝড়ে হাইতিকে লণ্ডভণ্ড করে ৩-০ গোলের বড় জয় দিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।পরিসংখ্যান কিংবা শক্তিমত্তা— সব দিক থেকেই যে হাইতি ব্রাজিলের চেয়ে বহুগুণ পিছিয়ে, পুরো ম্যাচে সেটারই এক জাজ্বল্যমান প্রদর্শনী দেখাল ভিনিসিউস-কুনহারা। ম্যাচের ৫৬ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে হাইতির রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখে ব্রাজিল। নকআউট পর্বের মহালড়াইয়ের আগে এই দাপুটে জয় সেলেসাওদের আত্মবিশ্বাসকে দেবে এক বিশাল বুস্টিং।ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির বক্সে একের পর এক আক্রমণ সাজাচ্ছিল সেলেসাওরা। ১২ মিনিটে রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে প্রথম ধাক্কা খায় ব্রাজিল। ২২ মিনিটে বার্সেলোনা তারকা রাফিনহা হাইতি গোলকিপারকে একদম একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে বল বাইরে মারেন।তবে সেই আক্ষেপের রেশ এক মিনিটও স্থায়ী হতে দেননি ম্যাথিউস কুনহা ও ভিনিসিউস জুনিয়র। ঠিক তার পরের মিনিটেই (২৩ মিনিটে) বল নিয়ে হাইতির ডি-বক্সে ঢুকে এক জোরালো শট নেন ভিনিসিউস। হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিড প্রথম দফায় বল ঠেকিয়ে দিলেও নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ওত পেতে থাকা কুনহা ফিরতি বলে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে মেতে তোলেন প্রথম উদযাপনে।৩৬ মিনিটে আসে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোল। এবারও সেই চেনা যুগলবন্দী! ভিনির বাড়ানো এক চমৎকার ডিফেন্সচেরা থ্রু পাসে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান কুনহা। আর বিরতির ঠিক আগে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিটে) গোল উৎসবে নাম লেখান ভিনিসিউস নিজেই। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা গোলরক্ষক জনি প্লাসিডকে একা পেয়ে তাঁর দুই পায়ের ফাঁক গলে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচের স্কোরলাইন করে ফেলেন ৩-০।প্রথমার্ধের গোল উৎসবের মাঝেই ৪০ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ব্রাজিল। চোটের কারণে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় উইঙ্গার রাফিনহাকে। তাঁর জায়গায় মাঠে নামানো হয় ১৯ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা রায়য়ানকে।দ্বিতীয়ার্ধের ৬৪ মিনিটে কোচ আনচেলত্তি কৌশলগত কারণে জোড়া গোল করা কুনহা ও লুকাস পাকেতাকে তুলে মাঠে নামান এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে। মাঠে নেমে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে বল জালে জড়িয়েছিলেন এনদ্রিক। কিন্তু ভাগ্য সহায় না থাকায় প্রথমার্ধের মতো এই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল বাড়াতে পারেনি সেলেসাওরা।[TECHTARANGA-POST:915]পুরো ম্যাচে হাইতি ব্রাজিলের ডিফেন্সের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে না পারলেও ৬৪তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সেরা সুযোগটি পেয়েছিল তারা। একটি কর্নার কিক থেকে অনেকটা উঁচুতে লাফিয়ে দুর্দান্ত এক হেড করেন হাইতির রিকার্ডো আদে। কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকার অবিশ্বাস্য এক রিফ্লেক্সে বলটি লাইনের ওপর থেকে ফিরিয়ে দেন। তবে বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত না হয়ে শূন্যে ভেসে উঠলে, ছুটে এসে এক চোখধাঁধানো ওভারহেড কিকে (বাইসাইকেল কিক স্টাইলে) বল ক্লিয়ার করে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে দলকে রক্ষা করেন অধিনায়ক দানিলো।