কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে দুর্লভ লাল সোনাইল: মুগ্ধ ফুলপ্রেমীরা
সবুজে ঘেরা শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশের মাঝে সৌন্দর্যের আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ও দুর্লভ লাল সোনাইল ফুল। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণে ফুটে থাকা এই ফুলগুলো এখন প্রকৃতির এক অনবদ্য রঙিন ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালচে-গোলাপি রঙের এই অপরূপ ফুল কলেজ ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে আরও মনোরম ও প্রাণবন্ত। নয়নাভিরাম এই দৃশ্য দেখে শিক্ষার্থী, শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয়রা সবাই মুগ্ধ হচ্ছেন।লাল সোনাইল বা ক্যাসিয়া জাভানিকা (Cassia javanica) দেশের তুলনামূলক দুর্লভ ফুলের মধ্যে অন্যতম। এর ইংরেজি নাম বার্মিস পিঙ্ক ক্যাসিয়া। এটি মূলত ফ্যাবেসি পরিবারের একটি উদ্ভিদ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এর আদি নিবাস হলেও উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এটি বেশি জন্মায়। দ্রুত বর্ধনশীল মাঝারি আকারের এই গাছটি তার ছাতার মতো বিস্তৃত ডালপালা এবং গোলাপি-লাল ফুলের সমারোহের জন্য সুপরিচিত। বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্য সময় পাতাহীন থাকলেও ফুল ফোটার মৌসুমে পুরো গাছটি ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।কলেজ সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের মূল ফটক, নতুন ভবন এবং খেলার মাঠের পাশে অন্যান্য গাছের সঙ্গে লাল সোনাইলের চারা রোপণ করা হয়। বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতে যখন এই গাছে ফুলের মেলা বসে, তখন পুরো ক্যাম্পাস যেন এক নতুন সাজে সেজে ওঠে। শিক্ষার্থী মাহিমা সুলতানা মৌ বলেন, প্রতিদিন কলেজে প্রবেশের সময় এই ফুলগুলো চোখে পড়লে মন ভালো হয়ে যায়। পড়াশোনার চাপের মধ্যেও এই ফুল আমাদের মানসিক আনন্দ দেয়। আরেক শিক্ষার্থী তানভীর আহসান অর্কর মতে, বন্ধুদের সাথে আড্ডার সময় এই ফুলের স্বর্গীয় দৃশ্য এক অসাধারণ অনুভূতি তৈরি করে।[TECHTARANGA-POST:505]কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যবই নয়, একটি প্রাকৃতিক ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। এতে প্রকৃতির প্রতি তাদের ভালোবাসা তৈরি হবে। আমাদের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ থাকলেও লাল সোনাইল এখন ক্যাম্পাসের বিশেষ আকর্ষণ।কলেজের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, এই ফুল কেবল দেখতেই সুন্দর নয়, ক্যাসিয়া প্রজাতির বিভিন্ন অংশ ঐতিহ্যগতভাবে ভেষজ চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়। এটি হজমজনিত সমস্যায় বেশ কার্যকর। তবে যেকোনো ভেষজ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।পরিবেশবাদীরা বলছেন, লাল সোনাইলের মতো দুর্লভ প্রজাতির গাছগুলো প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছগুলো সংরক্ষণ করা এবং নতুন করে রোপণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এই উদ্যোগটি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও এক অনন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।