মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

সুরের আকাশে নক্ষত্রপতন: চিরবিদায় নিলেন সংগীতের জাদুকরী আশা ভোঁসলে

ভারতীয় সংগীতজগতের এক অদ্বিতীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সুরের রানী, বহুমাত্রিক কণ্ঠের অধিকারী এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাদের মোহিত করা কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার ৯২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।শিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে। তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে এই কিংবদন্তি শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এর আগে তাঁর নাতনি জানাই ভোঁসলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পীর অসুস্থতার কথা জানিয়ে ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশেই পাড়ি জমালেন।[TECHTARANGA-POST:382]১৯৪০-এর দশকে শুরু হওয়া আশা ভোঁসলের সংগীতযাত্রা প্রায় আট দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত ছিল। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়াতলে থেকেও তিনি নিজস্ব এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সঙ্গে কাজ করে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। পরবর্তীতে আরডি বর্মণের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতে আধুনিকতা ও পরীক্ষাধর্মী সুরের এক নতুন জোয়ার নিয়ে আসে।আশা ভোঁসলে কেবল প্লেব্যাক গায়িকা ছিলেন না, ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভা। ক্ল্যাসিক্যাল, গজল, পপ, ক্যাবারে থেকে শুরু করে লোকসংগীত—সবখানেই তাঁর কণ্ঠ ছিল সাবলীল। পিয়া তু আব তো আজা, দম মারো দম, ইন আঁখো কি মস্তি-এর মতো কালজয়ী গানগুলো তাঁকে অমর করে রাখবে। হাজার হাজার গানে কণ্ঠ দেওয়া এই শিল্পী শুধু হিন্দি নয়, বহু আঞ্চলিক ও বিদেশি ভাষাতেও সংগীতের জাদু ছড়িয়েছেন।দীর্ঘ কর্মজীবনে অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ-এ ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার তাঁর অর্জনের ঝুলিতে শোভা পাচ্ছে।

সুরের আকাশে নক্ষত্রপতন: চিরবিদায় নিলেন সংগীতের জাদুকরী আশা ভোঁসলে