মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

পিজ্জা: জিভে জল আনা এক আদিম প্রেমের নাম

পিজ্জা—নামটি শুনলেই জিভে জল আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। গোল চ্যাপ্টা রুটির ওপর গলানো পনির, লাল টমেটো সস আর সুগন্ধি তুলসী পাতার সেই চিরাচরিত স্বাদ আজ বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের প্রিয়। কিন্তু আমাদের হাতের নাগালে থাকা এই আধুনিক পিজ্জার পেছনে রয়েছে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন এক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ইতিহাস।প্রাচীন সূচনা: যখন পিজ্জা ছিল সাধারণের খাবারপিজ্জার শিকড় লুকিয়ে আছে প্রাচীন সভ্যতায়। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন মিশরীয়, গ্রিক এবং রোমানদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব ধাঁচের 'চ্যাপ্টা রুটি' ছিল। তখনকার ভ্রমণকারী, সৈনিক কিংবা কৃষকদের জন্য এটি ছিল এক সহজলভ্য ও বহনযোগ্য খাবার। তারা রুটির ওপর বিভিন্ন ভেষজ ও তেল মাখিয়ে খেয়ে ক্ষুধা মেটাতেন।নেপলসের সেই বৈপ্লবিক রূপান্তরআধুনিক পিজ্জার জন্মস্থান ধরা হয় ইতালির নেপলস শহরকে। উনিশ শতকে এখানেই পিজ্জা তার পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে শুরু করে। তবে পিজ্জার ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি আসে ১৮৮৯ সালে। ইতালির রানী মার্গারিটার সম্মানে রাফায়েল এসপোসিটো একটি বিশেষ পিজ্জা তৈরি করেন। ইতালীয় পতাকার রঙের সাথে মিল রেখে এতে ব্যবহার করা হয় লাল টমেটো, সাদা মোজারেলা চিজ এবং সবুজ তুলসী পাতা। রানীর নামানুসারে এর নাম দেওয়া হয় 'পিজ্জা মার্গারিটা', যা আজও বিশ্বজুড়ে ক্ল্যাসিক হিসেবে পরিচিত।বিশ্বজয়ের পথে পিজ্জাবিংশ শতকের শুরুতে ইতালীয় অভিবাসীরা যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন, তখন তাদের সাথে যায় পিজ্জার রেসিপিও। তবে এর প্রকৃত বিশ্বায়ন ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। যুদ্ধ শেষে ইতালিতে অবস্থান করা সৈন্যরা যখন নিজ দেশে ফেরেন, তখন তারা পিজ্জার সেই জাদুকরী স্বাদ ভুলতে পারেননি। তাদের মাধ্যমেই আমেরিকা ও ইউরোপের ঘরে ঘরে পিজ্জা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।অঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও নতুন স্বাদসময়ের সাথে সাথে পিজ্জা তার খোলস পাল্টেছে। শিকাগোর বিখ্যাত 'ডিপ-ডিশ' পিজ্জা, নিউইয়র্কের 'থিন-ক্রাস্ট' কিংবা ইতালির ঐতিহ্যবাহী 'নেপোলিটান'—প্রতিটিই নিজস্ব স্বাদে অনন্য। একবিংশ শতাব্দীতে এসে পিজ্জার এই বিবর্তন আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এখন কেবল চিজ আর টমেটো নয়, যুক্ত হয়েছে চিকি চিকেন পিজ্জা কিংবা দ্য লার্ডারিটা’র মতো উদ্ভাবনী সব ফিউশন ফ্লেভার।প্রযুক্তি ও পিজ্জার ভবিষ্যৎবর্তমান যুগে পিজ্জা উপভোগ করা আরও সহজ হয়ে গেছে। স্মার্টফোন অ্যাপ আর অনলাইন ডেলিভারির কল্যাণে এখন এক ক্লিকেই গরম গরম পিজ্জা চলে আসে দোরগোড়ায়। রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ক্ষেত্রেও পিজ্জা এখন অন্যতম লাভজনক একটি আইটেম।সহজ চ্যাপ্টা রুটি থেকে শুরু করে গ্লোবাল আইকন হয়ে ওঠা পর্যন্ত পিজ্জার এই যাত্রা মানব সংস্কৃতির আদান-প্রদান এবং সুস্বাদু খাবারের প্রতি চিরন্তন ভালোবাসার এক জীবন্ত দলিল। আপনি ক্লাসিক মার্গারিটা পছন্দ করুন বা আধুনিক ফিউশন—পিজ্জার চিরন্তন আবেদন ভবিষ্যতেও অমলিন থাকবে।পিজ্জা নিয়ে কিছু মজাদার তথ্য:রানী মার্গারিটার প্রিয়: পিজ্জা মার্গারিটার তিনটি উপকরণ (টমেটো, চিজ, তুলসী) ইতালির পতাকার তিন রঙের প্রতিনিধিত্ব করে।বিশ্বের বৃহত্তম পিজ্জা: ইতিহাসের বৃহত্তম পিজ্জাটি তৈরি হয়েছিল ইতালিতে, যার আয়তন ছিল প্রায় ১৩,৫৮৭ বর্গফুট!সর্বাধিক বিক্রি: পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ৩৫০ স্লাইস পিজ্জা খাওয়া হয়।

পিজ্জা: জিভে জল আনা এক আদিম প্রেমের নাম