ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দুর্ঘটনা, নিহত ৫
ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটেছে দুটি পৃথক ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর এবং মধুখালী উপজেলা এলাকায় এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায়। হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহর থেকে কানাইপুরগামী একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের বিকট শব্দে ট্রাকের চাকা ফেটে সেটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে। ওই মুহূর্তে বিপরীতমুখী একটি প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে।এতে প্রাইভেট কারের এক অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ইজিবাইকটি বালু ও ট্রাকের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় ক্রেন দিয়ে ট্রাক সরিয়ে এবং বালু অপসারণ করে চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন মারা যান।নিহতরা হলেন মাগুরার মহেশপুর থানার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২) ও তাঁর ৭ বছরের শিশুসন্তান শাওন। এ ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮) মারাত্মক জখম নিয়ে ফমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বাসের কোনো যাত্রী হতাহত হননি।অন্যদিকে, এর ঠিক এক ঘণ্টা আগে বেলা ৩টার দিকে একই মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আরপাড়া ইউনিয়নের আরুয়াকান্দি এলাকায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ফরিদপুর থেকে মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা 'কিং ফিশার' পরিবহনের একটি লোকাল বাসের সংঘাত ঘটে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী মারা যান এবং চারজন আহত হন।[TECHTARANGA-POST:1425]হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মধুখালীর দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় আনা হয়েছে এবং সড়ক আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।