মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

সখীপুরে মরিচকুঁড়ি খালের নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা সহস্রাধিক মানুষের

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মরিচকুঁড়ি খালের ওপর তৈরি একটি মাত্র নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ। দীর্ঘ দিন ধরে একটি পাকা সেতুর দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।উপজেলার কাঁচাবেষ্টিত এলাকা কালিয়া ইউনিয়ন ও কাঁকড়াজান ইউনিয়নকে আলাদা করেছে এই মরিচকুঁড়ি খাল। খালের এক পাড়ে কাঁকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি গ্রাম এবং অন্য পাড়ে কালিয়া ইউনিয়নের বাশারচালা গ্রাম। দুই গ্রামের মাঝামাঝি এই খালের ওপর নির্মিত সরু সাঁকোটিই শিশু-কিশোর, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও বয়োবৃদ্ধসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পার হওয়া গেলেও কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়। বর্ষাকালে বা আবহাওয়া খারাপ থাকলে হেঁটে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষকেরা ধানসহ উৎপাদিত বিভিন্ন সবজিপণ্য স্থানীয় হাটে বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় জরুরি রোগী পরিবহনে। সাঁকো দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন না চলায় রোগী নিয়ে পাশের মহানন্দপুর বাজার হয়ে অতিরিক্ত প্রায় এক ঘণ্টা পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।বাশারচালা গ্রামের শিক্ষার্থী পারভেজ আহমেদ আফসোস করে জানায়, কোমলমতি শিশুরা বাইসাইকেল নিয়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। অনেক সময় পানিতে পড়ে গিয়ে বই-খাতাসহ ভেজা শরীরে বাড়ি ফিরতে হয় তাদের। বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের জন্য এই সাঁকো পার হওয়া প্রায় অসম্ভব।ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাধ্য হয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের একা স্কুলে পাঠাতে সবসময় ভয় কাজ করে। এখানে একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হতো।”গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বছরের পর বছর ধরে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের আকুল আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখানে একটি পাকা ব্রিজ নির্মিত হলে যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।[TECHTARANGA-POST:1047]এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সাঁকো বা কাঁচা পারাপারের স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সখীপুরে মরিচকুঁড়ি খালের নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা সহস্রাধিক মানুষের