শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে বিএনপির ৮ দিনের বড় কর্মসূচি, নেতা-কর্মীদের দেওয়া হলো বিশেষ নির্দেশনা!
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে টানা আট দিনের বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি। তবে এবারের কর্মসূচির মূল বিশেষত্ব হচ্ছে—দলীয় কর্মকাণ্ডের চেয়ে জনস্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দলের হাইকমান্ড থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যেন তিলমাত্র দুর্ভোগ বা রাস্তাঘাটে যানজটের সৃষ্টি না হয়।আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে খোদ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে এই সতর্কবার্তা ও কর্মসূচির ঘোষণা দেন।আট দিনের কর্মসূচিতে যা যা থাকছে : নয়াপল্টনের যৌথ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হয়ে ১ জুন পর্যন্ত টানা আট দিন দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।৩০ মে (মূল দিন): এদিন ভোর ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।মাজার জিয়ারত: ৩০ মে বেলা ১১টায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতারা শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন।অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণ : মাজার জিয়ারত শেষে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানা পর্যায়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা : ৩১ মে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে মূল কেন্দ্রীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।অন্যান্য কর্মসূচি : এই আট দিনব্যাপী শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ, নেতা-কর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আলাদা আলাদা স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।[TECHTARANGA-POST:685]বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীতরিজভী জানান, কেন্দ্রের সাথে মিল রেখে একই দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর পর্যায়েও একযোগে পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। তবে সবখানেই জনদুর্ভোগ এড়ানোর বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করা হবে।আজকের এই যৌথ সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবেরা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।