মেধাবী ওমরের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত চান্স পেয়েছেন জাবি ও রাবিতে
ওমর জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে ৪.৯২ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরে কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারে এক শিক্ষকের সহায়তায় বিনা খরচে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন।ওমরের মা কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিনের স্ত্রী। পরিবারে দুই ছেলে—ওমর ওসমান ও রাফিউল। এর মধ্যে বড় ছেলে ওমর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:266]বাস্তব চিত্র বলছে, একটি মেঠোপথের পাশে টিনশেড ছোট্ট বাড়িতে বসবাস ওমরদের। ঘর দুটি জরাজীর্ণ; ভাঙা দরজা ও জানালায় কাঠের টুকরা ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে কোনোভাবে আড়াল করা।স্থানীয়দের বলছেন,ওমর যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তেন, তখনই কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তাঁর মা অন্যের বাসায় কাজ করে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন।ওমর এখন বাড়ির পাশের মাঠে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে পেঁয়াজ তুলেন।ওমর বলেন, ‘শিক্ষকদের সহযোগিতায় এতদূর পড়াশোনা করতে পেরেছি। পরিবারের পক্ষে বই-খাতা কেনাও সম্ভব না। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সারা দেশে ৯০তম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম হয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত। এখন ভর্তি ফি জোগাড় করতে প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরিতে মাঠে কাজ করছি।’জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওমর অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বিনা খরচে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’