রজব আলী বনাম ঝুমা আপা
রজব আলী কুষ্টিয়া শহরের নামকরা উকিল।কোর্টে তার এমন ভাব, যেন বিচারপতির পরেই তার অবস্থান।মানুষ বলে,রজব ভাই মামলা ধরলে জজও নাকি দুইবার ভাবেন!এই কথা শুনে রজবের হাঁটা-চলাও বদলাইয়া গেছিল।আগে সাইকেলে কোর্টে যাইত, এখন মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার খুলে এমন শব্দ কইরা যায়, মনে হয় কুষ্টিয়াতে যুদ্ধ লাগছে।বন্ধুরা এই বাড়বাড়ন্ত দেখে মনে মনে জ্বইলা-পুইড়া কয়লা।তারা ঠিক করল—এই লোকরে একটু শিক্ষা দেওয়া দরকার![TECHTARANGA-POST:710]শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পড়ল ঝুমা আপার উপর।ঝুমা আপা কুষ্টিয়া শহরের এক রহস্যময় নারী।তার বয়স কেউ জানে না,বৈবাহিক অবস্থা বুঝা আরও কঠিন।কারও মতে তিনটা বিয়া করছে,কারও মতে পাঁচটা।তবে সবাই এক কথায় স্বীকার করে—ঝুমা আপার কাছে গেলে মানুষ আর আগের মানুষ থাকে না!তো একদিন ঝুমা আপা হঠাৎ রজবের চেম্বারে হাজির।চোখে সানগ্লাস, হাতে বড় ব্যাগ, মুখে রহস্যময় হাসি।সে ঢুকেই বলল,আপনি কি সেই বিখ্যাত উকিল রজব আলী?রজব চুলে হাত বুলাইয়া বলল,জি… মানুষ তাই কয়।এই মানুষ তাই কয় বলাটাই তার কাল হইল।কয়দিনের মধ্যেই ঝুমা আপা রজবের জীবনের ফুলটাইম ঝামেলা হয়ে গেল।সকালে ফোন—রজব, বাজার থেইকা ইলিশ আনবা।দুপুরে ফোন—রজব, আমার বিড়ালটার জন্য চিকেন কিনবা।রাতে ফোন—রজব, তুমি আমারে সত্যি ভালোবাসো তো?একদিন তো অবস্থা এমন হইল,রজব কোর্টে দাঁড়ায়া বিচারকের সামনে কেস লড়তেছে,হঠাৎ ফোন—শুনছো, ফেরার সময় ধনেপাতা আনবা। বাসায় নাই।রজব ভয় পেয়ে বিচারকরে বলল,স্যার, জরুরি কল!বিচারক গম্ভীর গলায় বলল,ধনেপাতা নিয়া পরে কথা কইয়েন, আগে মামলা শেষ করেন।এদিকে রজবের বন্ধুরা দূর থেইকা সব দেখে মজা লুটতেছে।চায়ের দোকানে বসে তারা গান ধরে—ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে—[TECHTARANGA-POST:703]রজবের বউ রহিমা প্রথমে কিছু বুঝতে পারে নাই।পরে দেখে তার স্বামী আগে বাসায় ফিরত রাত আটটায়,এখন ফিরতেছে রাত বারোটায়, হাতে শপিং ব্যাগ আর মুখে ক্লান্তি।একদিন রহিমা জিজ্ঞেস করল,এই ধনেপাতা, পেঁয়াজ, ফেসওয়াশ—এসব কাদের জন্য?রজব ঢোক গিলে বলল,দেশের স্বার্থে—রহিমা তখনই বুঝে গেল,দেশ না, অন্য কিছু বিপদ হইছে।একদিন রজব ঠিক করল,আজ সব শেষ করবে।সে সাহস কইরা ঝুমা আপারে বলল,দেখেন, এই সম্পর্ক আর চালানো সম্ভব না।ঝুমা আপা ঠান্ডা গলায় বলল,ঠিক আছে… তাহলে আমি ফেসবুকে লাইভে যাই।রজব কাঁপা গলায় বলল,কী দরকার লাইভের!তাহলে কালকে আমারে কক্সবাজার নিয়া যাইবা।শেষমেশ কী আর করা!রজব এখন প্রতি শুক্রবার ঝুমা আপারে নিয়ে ঘুরতে যায়,শনিবার বাজার করে,রবিবার কোর্টে গিয়ে বিচারকের সামনে দাঁড়ায়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে।বন্ধুরা এখন আর তাকে উকিল সাহেব বলে না।সবাই ডাকে—ঝুমা আপার পিএ!আর রজব?সে এখন জীবন সম্পর্কে একটা কথাই বলে—মামলার ফাঁদ থেইকা বাঁচা সহজ…কিন্তু ঝুমা আপার ফাঁদ থেইকা বাঁচা অসম্ভব!