মুকসুদপুর    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

বাজারে শীতের সবজি এলেও চড়া দাম, পাইকারি ও খুচরায় আকাশপাতাল তফাত

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ফুলকপি, শিম ও মুলার মতো আগাম শীতকালীন নানা পদের সবজির সরবরাহ বেশ বেড়েছে। তবে বাজারে শীতের আমেজ ও নতুন সবজির ভরপুর উপস্থিতি থাকলেও দামে একেবারেই কোনো স্বস্তি নেই। উল্টো পাইকারি ও স্থানীয় খুচরা বাজারের মধ্যে দর কষাকষিতে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান দেখা গেলেও সাধারণ ভোক্তাদের চড়া দামেই কেনাকাটা করতে হচ্ছে।আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, খিলক্ষেত কাঁচাবাজার, রায়েরবাজার এবং মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের বাজারদরের এই চরম অস্বস্তিকর চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির বাজারে তুলনামূলক সস্তা তালিকার শীর্ষে রয়েছে কেবল পেঁপে ও লাউ। অন্যদিকে নতুন টমেটো, শিম ও ফুলকপি বিকোচ্ছে আকাশচুম্বী দামে। যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারের মতো পাইকারি আড়তে ফুলকপি, লাউ, ঝিঙে, কচুমুখী ও পটল ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও স্থানীয় খুচরা বাজারে এর দাম আরও বেশি। বেগুন ও কাঁকরোল কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন মুলা ও ঢ্যাঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, নতুন আলু ১৪০ টাকা এবং টমেটো প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। সবজির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আমিষের প্রধান উৎস মাছ ও মাংসের বাজারও চরম উত্তপ্ত। একসময় সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকা তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের দামও এখন ৩০০ টাকার কাছাকাছি পৌছেছে। বড় আকারের রুই ও কাতলা মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের পাঙাশ স্থানীয় বাজারে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি চিংড়ি ৮০০ থেকে ১,৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমিষের অন্য খাত মাংসেও পাইকারি ও খুচরা মূল্যের বড় ব্যবধান ক্রেতাদের পকেট কাটছে। কারওয়ান বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও এলাকার দোকানে তা বিকোচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। একইভাবে স্থানীয় বাজারে গরুর মাংস ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১,৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা পাইকারি দরের চেয়ে অন্তত ১০০ টাকা বেশি।[TECHTARANGA-POST:1422] এদিকে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মুদি বাজারে নতুন করে পরিবর্তন না এলেও দাম আগের মতোই উঁচুতে থমকে আছে। বাজারে ছোট মসুর ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ছোলার ডাল ১০৫ টাকা, চিনি ১১০ টাকা, প্যাকেটজাত পোলাওর চাল ২৩০ টাকা এবং প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের এমন অস্বাভাবিক দামের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে চরম বাজেট সংকটে দিন কাটাতে হচ্ছে।

বাজারে শীতের সবজি এলেও চড়া দাম, পাইকারি ও খুচরায় আকাশপাতাল তফাত