৮৩ বছর বয়সে রাজনীতি ছাড়বেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান!
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান রাজনীতি থেকে তাঁর অবসরের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। সমকালীন রাজনীতি ও প্রবীণ নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী এই নেতা জানান, বর্তমান সরকার যদি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকে, তবে তাঁর বয়স হবে ৮৩ বছর। ৮৩ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তিনি আর সক্রিয় রাজনীতি করবেন না এবং অবশিষ্ট সময় ধর্মীয় উপাসনায় কাটাতে চান। তিনি বলেন, আমি ওই সময় আর জেল খাটতে চাই না। নাতি-পুতিদের বাড়িতে রেখে জেলে থাকার এই রাজনৈতিক কালচার আমি বাংলাদেশে চাই না।সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী প্রবীণ নেতাদের অসুস্থতা এবং কারাবাস নিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন:তোফায়েল আহমেদ : তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে মৃত্যুশয্যায় এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অবস্থায় তাঁর নামে ওয়ারেন্ট হওয়া দুঃখজনক।রাশেদ খান মেনন ও আমির হোসেন আমু : ৮৫ বছর বয়সী রাশেদ খান মেনন এবং ৮৯ বছর বয়সী আমির হোসেন আমুর মতো প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের এই বয়সে জেলে থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, অপরাধ করলে বিচার হোক, কিন্তু শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধাদের জামিন পাওয়া তাদের অধিকার।সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি তাঁদের আগে থেকেই সাবধান করেছিলেন। তাঁর মতে, যারা ভেবেছিলেন তাঁদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী এবং সূর্য আর ডুববে না, তাঁরা ভুল করেছিলেন। বর্তমান শাসকদেরও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সূর্য ডুবলে তা আবার পূর্ব দিকে ওঠে।[TECHTARANGA-POST:637]পশ্চিম বাংলার বর্তমান অস্থিরতা ও সেনাবাহিনী নামানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতির এই হাওয়া বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে রাজনীতি না করে সবাইকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।