কুষ্টিয়ায় ভোজনরসিকদের নতুন গন্তব্য ‘রাজ হান্ডি গোস্ত’: মাটির হাঁড়িতে রসনার রাজকীয় তৃপ্তি
কুষ্টিয়া বলতেই একসময় মানুষের চোখে ভেসে উঠত কুলের আচার, তিলের খাজা কিংবা কূলফির ছবি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কুষ্টিয়ার খাদ্যতালিকায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন ও রাজকীয় নাম— ‘রাজ হান্ডি গোস্ত’। মাটির হাঁড়িতে বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করা এই গরুর মাংসের স্বাদ নিতে এখন প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ। কেবল স্থানীয়রা নন, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর এমনকি ঢাকা থেকেও ভোজনরসিকরা আসছেন এই স্বাদ পরখ করতে।রাজ হান্ডি গোস্ত মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত ‘চম্পারণ মিট’ বা ‘আহুনা মিট’-এর আদলে তৈরি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রান্নার প্রক্রিয়া। এখানে কোনো আধুনিক প্রেশার কুকার বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ব্যবহার করা হয় না। পরিবর্তে, মাটির হাঁড়িতে খাঁটি সরিষার তেল, বিশেষ সিক্রেট মশলা এবং আস্ত রসুন দিয়ে মাংস মাখানো হয়। এরপর হাঁড়ির মুখ আটা দিয়ে শক্ত করে সিল করে দেওয়া হয় (যাকে বলা হয় 'দম' দেওয়া)। কয়লার মৃদু আঁচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাপে এই মাংস সেদ্ধ হয়। মাটির হাঁড়ির সোঁদা গন্ধ আর মশলার নির্যাস মাংসকে করে তোলে একদম তুলতুলে ও রসালো।[TECHTARANGA-POST:242]রেস্তোরাঁটিতে আসা নিয়মিত গ্রাহক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “কুষ্টিয়ায় অনেক খাবারই খেয়েছি, কিন্তু রাজ হান্ডি গোস্তের স্বাদ একেবারেই আলাদা। বিশেষ করে মাংসের সাথে থাকা আস্ত রসুন যখন ভাতের সাথে মাখা হয়, তখন যে স্বাদ পাওয়া যায় তা অতুলনীয়। মাটির হাঁড়ির কারণে মাংসের নিজস্ব আদ্রতা বজায় থাকে, যা সাধারণ কড়াইতে পাওয়া সম্ভব নয়।”রাজ হান্ডি গোস্ত কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা খাবারের মান ও বিশুদ্ধতার বিষয়ে কোনো আপস করেন না। প্রতিদিন বাজার থেকে সংগৃহীত টাটকা মাংস এবং নিজেদের তৈরি করা মশলা ব্যবহার করাই তাদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ। সাধারণত দুপুর এবং রাতের খাবারের সময় এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। অনেক সময় গ্রাহকরা আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখেন যাতে গরম গরম হান্ডি গোস্ত মিস না হয়।কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র চাঁদ সুপার মার্কেট, এন.এস রোড (পাঁচ রাস্তার মোড়) এলাকায় অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি। যারা ঝাল ও মশলাদার খাবারের ভক্ত এবং মাটির হাঁড়ির সেই আদি স্বাদ ফিরে পেতে চান, তাদের জন্য কুষ্টিয়া ভ্রমণে ‘রাজ হান্ডি গোস্ত’ হতে পারে সেরা গন্তব্য।