মেঘনায় জেলের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ, খুচরা বাজারে দাম এখনও চড়া
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে কাঙ্ক্ষিত রূপালি ইলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সমুদ্র ও নদীর মোহনা থেকে ট্রলারবোঝাই ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। এতে নদীবেষ্টিত লক্ষ্মীপুর ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকার জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবীদের মুখে হাসি ফুটেছে।তবে নদী ও উপকূলীয় আড়তগুলোতে ইলিশের ব্যাপক ছড়াছড়ি থাকলেও তার প্রভাব এখনো রায়পুরসহ পার্শ্ববর্তী খুচরা বাজারগুলোতে মেলেনি। স্থানীয় বাজারগুলোতে যোগান প্রচুর হলেও বাড়তি চাহিদার অজুহাতে মাছের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদরের মজুচৌধুরীর ঘাট, মতিরহাট, রায়পুরের হজিমারা এবং উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশীসহ সীমান্তবর্তী চরভৈরবি এলাকার জেলেপল্লি ও আড়তগুলোতে এখন বইছে আনন্দের উৎসব। গত এক মাস ধরে মেঘনা নদীর নাব্যতাসংকটের কারণে সাগরে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে জেলেরা চরম হতাশায় ভুগছিলেন। তবে গত কয়েকদিনে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে।ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে আকারভেদে আড়তে প্রতি কেজি ইলিশ সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে এসে পৌঁছাচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। রায়পুরসহ চার উপজেলার বাজারে ২০০ গ্রাম ওজনের ছোট সাইজের ইলিশ ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও এক কেজি বা তার চেয়ে বড় সাইজের ইলিশ কিনতে গুণতে হচ্ছে কমপক্ষে ১২০০ টাকা। তবে মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ ৫০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম ওজনের মাঝারি সাইজের ইলিশ, যা কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ইলিশ বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদীর পানির প্রবাহ ও গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে সামুদ্রিক নিম্নচাপ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মা ইলিশ স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়তে মিঠাপানির দিকে আসছে। এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং জাটকা নিধন রোধে কঠোর নজরদারির ফলেই নদীতে ইলিশের সরবরাহ ও আকার বৃদ্ধি পেয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1149]রায়পুরের আড়তদার দেলোয়ার হোসেন ও শাহ আলম জানান, এখন ইলিশ ধরার আসল মৌসুম শুরু হওয়ায় সামনে সরবরাহের পাশাপাশি দামও আরও কমবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ ধরা পড়ছে বেশি। মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে এ বছর দেশে প্রায় ৬ লাখ টন ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে—যা জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ অবদান রাখবে।