মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

২০০৭ সালে মেসির কোলে গোসল করা শিশুই আজ ফাইনালে প্রতিপক্ষ!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৩৯ বছর বয়সি লিওনেল মেসির দুর্দান্ত দুটি অ্যাসিস্টে ২-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টজুড়ে আলো ছড়ানো স্পেনের কিশোর বিস্ময় লামিন ইয়ামাল।একজন ছুটছেন ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে আরও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে, আর অন্যজন ছুটছেন তরুণ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের খোঁজে। অবিশ্বাস্য এই রূপকথার শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৭ সালে।২০০৭ সালে কাতালান সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ত আয়োজিত ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন ২০ বছর বয়সি তরুণ ফুটবলার লিওনেল মেসি। বার্সার খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ পরিবারের শিশুদের নিয়ে এই প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনটি করা হয়েছিল।ভাগ্যচক্রে, সেদিন মেসির কোলে তুলে দেওয়া হয়েছিল মাত্র কয়েক মাস বয়সি এক শিশুকে, যার নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। পরম যত্নে সেই শিশুকে প্লাস্টিকের গামলায় গোসল করানো এবং কোলে নিয়ে ছবি তোলার সময় মেসি নিজেও জানতেন না যে, তাঁর কোলে থাকা এই ছোট্ট শিশুটিই একদিন বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হয়ে উঠবে।বছরের পর বছর ধরে সেই ছবিগুলো সবার অলক্ষ্যেই ধুলোবালি মেখে পড়ে ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো শেয়ার করতেই পুরো ফুটবলবিশ্ব চমকে ওঠে। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যাওয়া সেই ছবিগুলো দেখে ভক্তরা স্তব্ধ হয়ে যান— মেসির কোল আলো করে থাকা সেই ছোট্ট শিশুই যে আজকের বার্সেলোনার নতুন জাদুকর!ফটোশুটের পর সময় বয়ে গেছে নদীর মতো। ইয়ামাল এরপর থেকে সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছেন। কৈশোরের গণ্ডি না পেরোতেই ক্লাব ও দেশের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন। অসাধারণ ড্রিবলিং, ক্ষুরধার দৃষ্টি এবং পরিণত ফুটবলীয় মস্তিষ্কের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।অন্য দিকে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন ইয়ামালের শৈশবের নায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক খেলছেন অবিশ্বাস্য ফুটবল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যখন ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন শেষ মুহূর্তের দুটি জাদুকরী অ্যাসিস্টে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেছেন ফাইনালে।ফুটবলবিশ্ব এখন এমন এক অসম লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যা রূপকথাকেও হার মানায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে এক প্রান্তে ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে আরও একটি সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লড়াইয়ে কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আর অন্য প্রান্তে ফুটবলবিশ্বে নতুন এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দীপ্ত কিশোর লামিন ইয়ামাল।[TECHTARANGA-POST:1013]উনিশ বছর আগে যে শিশুকে হাত ধুইয়ে দিয়ে পরম মমতায় কোলে তুলে নিয়েছিলেন মেসি, সেই শিশুই আজ ফাইনালে দাঁড়াবে তাঁর মুখোমুখি। বার্সেলোনার এক দাতব্য ফটোশুট থেকে শুরু হওয়া সেই গল্প আজ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে রূপ নিতে যাচ্ছে মহাকাব্যে। ইতিহাস এখন কার মাথায় মুকুট পরাবে, তা দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পুরো বিশ্ব।

২০০৭ সালে মেসির কোলে গোসল করা শিশুই আজ ফাইনালে প্রতিপক্ষ!