মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

অবশেষে শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হচ্ছে দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনী

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে প্রেক্ষাগৃহ বা হলসংকট তীব্রতর হচ্ছে। সিনেমা নির্মাণের পর প্রদর্শনী ও মুক্তির সুযোগ না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন দেশের তরুণ ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা। এই সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত টিকিট বা দর্শনীর বিনিময়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন নির্মাতারা।অবশেষে স্বাধীন নির্মাতাদের সেই দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ আগস্ট (শনিবার) প্রথমবারের মতো রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দর্শনীর বিনিময়ে তিনটি চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে।সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।দীপক কুমার জানান, আগামী শনিবার একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে আকাশ হকের সিনেমা ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’ এবং রাত ৮টায় দেখানো হবে মেজবাউর রহমান সুমনের চর্চিত সিনেমা ‘রইদ’। প্রতিটি সিনেমার দর্শনীর বিনিময়ে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরেই চাইছিলেন শিল্পকলায় যেন সিনেমার নিয়মিত শো রাখা হয়। আমরা একটি পাইলট প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি এবং তারই অংশ হিসেবে এই শনিবারের আয়োজন। আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা সপ্তাহে অন্তত এক দিন করে হলেও সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন রাখা। পরবর্তীতে সারা দেশের জেলা শিল্পকলা একাডেমিগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।এর আগে গত ৯ থেকে ১১ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘চলচ্চিত্র উৎসব একাল-সেকাল’ অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনব্যাপী সেই উন্মুক্ত উৎসবে দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ‘রইদ’, ‘মাস্তুল’ ও ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ দেখার জন্য জাতীয় চিত্রশালায় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আসন সংকুলান না হওয়ায় অনেক দর্শক মেঝে ও সিঁড়িতে বসে সিনেমা উপভোগ করেন, এমনকি স্থান না পেয়ে ফিরেও গেছেন অনেকে।দর্শকদের এই অভাবনীয় আগ্রহ ও ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানিয়েই এবার বাণিজ্যিকভাবে (দর্শণীর বিনিময়ে) নিয়মিত প্রদর্শনী চালুর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল শিল্পকলা।দীপক কুমার আরও যোগ করেন, আমাদের দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিত প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হচ্ছে, অথচ হলের অভাবে দেশের মানুষ তা দেখতে পায় না। শিল্পকলায় সিনেমা প্রদর্শনীর এই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হলে স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পথ উন্মোচিত হবে।[TECHTARANGA-POST:1102]একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবারের বিশেষ প্রদর্শনী থেকে সংগৃহীত টিকিট বিক্রির পুরো টাকাই সিনেমার প্রযোজনা সংস্থাকে দিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে একটি স্থায়ী নীতিমালা চূড়ান্ত হলে টিকিট বিক্রির ৭০ শতাংশ পাবেন প্রযোজকেরা এবং বাকি ৩০ শতাংশ পাবে শিল্পকলা একাডেমি। সিনেমার পাশাপাশি নিয়মিত চলচ্চিত্র বিষয়ক নানা কর্মশালার আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে সংস্থাটি।

অবশেষে শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হচ্ছে দর্শনীর বিনিময়ে সিনেমা প্রদর্শনী