মুকসুদপুরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ: সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে কমিটি গঠন
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কৃষ্ণাদিয়াতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো: সাইফুল ইসলামকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা জাহিদুর রহমান মুন্সিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ওঠে। বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক জরুরি সভায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির উপস্থিতিতে সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করেন। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিনে তিনি যে জবাব প্রদান করেন, তা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কাছে অসন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করেন।অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন মাওলানা সাইফুল ইসলাম মাদরাসার কোনো প্রশাসনিক, একাডেমিক কিংবা আর্থিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তবে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তিনি জীবনধারণ ভাতা প্রাপ্য হবেন।জানা যায়, মাওলানা মো: সাইফুল ইসলাম মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পরবর্তীতে মাদরাসায় আলিম শাখা চালু হলে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন জানান, তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে এর সত্যতা পেলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা মো: সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি ইতোমধ্যেই যথাযথ নিয়ম মেনে কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছি। তবে আমার দেওয়া ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় আমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, আমি তাদের ওপর শ্রদ্ধাশীল। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমি কমিটিকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবো। এছাড়া সার্বিক বিষয়ে আমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে আলোচনা করছি, তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।মাদ্রাসার সভাপতি স্বাক্ষরিত সাময়িক বরখাস্তাদেশমাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই আদেশের অনুলিপি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।