মুকসুদপুর    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

শীতে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি: সচেতনতায় যা করণীয়

শীতের সকালে আরামদায়ক বিছানায় লেপ বা কম্বল মুড়িয়ে থাকার চেয়ে আরামদায়ক আর কিছু হতে পারে না। তবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য শীতকাল মানেই স্বাস্থ্যের প্রতি একটু বাড়তি নজর দেওয়া। ভারতের বিশিষ্ট স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ (নিউ্রোলজিস্ট) ডা. দীপ দাস এক সাক্ষাৎকারে শীতকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি ও এ থেকে সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বাণী উচ্চারণ করেছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে মানুষের শরীরের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের কার্ডিওভাস্কুলার বা হৃৎপিণ্ডের সিস্টেমের ওপর এই তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে বাড়তি চাপ পড়ে। তবে ঠান্ডা আবহাওয়া মানেই যে সবার স্ট্রোক হবে, বিষয়টি এমন নয়। মূলত আবহাওয়া, বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং প্রাত্যহিক অভ্যাসের সংমিশ্রণেই মূল ঝুঁকি তৈরি হয়।শীতকালে শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ার কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলে মত দিয়েছেন ডা. দাস।ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে যেসব সতর্কতা মানবেন:হঠাৎ ঠান্ডায় নয়: শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠেই হঠাৎ করে গরম ঘর থেকে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে বের হওয়া ঠিক নয়।স্তরে স্তরে পোশাক পরুন: শরীর উষ্ণ থাকে এমন পোশাক বেছে নিন, খোলা ত্বক ঢেকে রাখুন এবং বাইরে ব্যায়াম শুরু করার আগে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিন।হঠাৎ ভারী ব্যায়াম নয়: যদি খুব বেশি ভারী কাজের অভ্যাস না থাকে, তবে ঠান্ডার মধ্যে হঠাৎ করেই কোনো কঠিন হাঁটা বা ব্যায়াম শুরু করা থেকে বিরত থাকুন।ওষুধে অনিয়ম নয়: উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং নির্ধারিত ওষুধ চালিয়ে যান। শুধু সুস্থ বোধ করছেন বলেই ওষুধের মাত্রা বাদ দেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তা পরিবর্তন করা যাবে না।নিয়মিত চেকআপ: যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া উচিত।স্ট্রোকের লক্ষণ চেনার উপায় (বিফাস্ট পদ্ধতি): মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হলে বা রক্তনালী ফেটে গেলে স্ট্রোক হতে পারে। এটি জীবনঘাতী হতে পারে বিধায় লক্ষণগুলো দ্রুত চেনার মাধ্যমে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলো মনে রাখার সহজ উপায় হলো 'বিফাস্ট' (B.E.F.A.S.T.) পদ্ধতি:B (Balance): হঠাৎ করে ভারসাম্য বা চলাফেরার সমন্বয় নষ্ট হয়ে যাওয়া।E (Eyes): চোখের দৃষ্টিতে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন আসা।F (Face): মুখের একপাশ ঝুলে পড়া বা বাঁকা হয়ে যাওয়া।A (Arms): হাত বা পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশ ভাব অনুভূত হওয়া, বিশেষ করে শরীরের একপাশে।S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।T (Time): সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে জরুরি সেবায় (অ্যাম্বুলেন্স বা হাসপাতালে) যোগাযোগ করা।[TECHTARANGA-POST:1454]হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা বা বিভ্রান্তি দেখা দেওয়াও একটি বিপজ্জনক লক্ষণ হতে পারে। লক্ষণগুলো কয়েক মিনিট পর আপনাআপনি ঠিক হয়ে গেলেও অপেক্ষা না করে তা কখন শুরু হয়েছিল তা নোট করুন এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন। ছোট ছোট কিছু অভ্যাস ও সতর্কতা মেনে চললেই শীতকালে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদে ও সুস্থ থাকা সম্ভব।

শীতে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি: সচেতনতায় যা করণীয়