নিউইয়র্কে প্রবাস জীবনের নতুন অধ্যায়: রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নামলেন তারকা জুটি হিল্লোল-নওশীন
টিভি নাটকের এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আদনান ফারুক হিল্লোল ও নওশীন নাহরিন মৌ। বেশ কয়েক বছর ধরেই অভিনয় জগত থেকে দূরে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তারা। এবার সেখানেই প্রবাস জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন এই তারকা জুটি। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে চালু করেছেন নিজেদের নতুন রেস্তোরাঁ এন ক্যাফে ৩৬৫ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার।দীর্ঘ এক বছরের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ থেকেই ভোজনরসিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এই রেস্তোরাঁ। নতুন এই উদ্যোগ সম্পর্কে হিল্লোল বলেন, শুরুতে আইডিয়াটা ছিল কেবল একটা ক্যাফে খোলার। কিন্তু পরে পরিধি বাড়তে বাড়তে সেটা এখন ফুল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার-এ রূপ নিয়েছে। আমিও ভাবলাম, পৃথিবীর রাজধানীতেই (নিউইয়র্ক) যদি আমাদের প্রথম রেস্টুরেন্ট হয়, এর চেয়ে ভালো শুরু আর কী হতে পারে! যদিও এখানে বার রয়েছে, তবে আমাদের সব খাবারেই শতভাগ হালাল মাংস ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজের আলু কাটা থেকে শুরু করে ল্যাম্ব শ্যাঙ্ক রান্না—সব রেসিপি আমরা নিজেরা ইনহাউজ ডেভেলপ করেছি। আজ থেকে দরজা খুলে দিলাম, এখন কাস্টমারদের মন জয় করার আসল পরীক্ষার পালা।রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রথম হলেও খাবারের জগতের সাথে হিল্লোলের যোগসূত্র কিন্তু বেশ পুরোনো। অভিনয়কে একপ্রকার বিদায় জানিয়ে কয়েক বছর আগেই পুরোদস্তুর ফুড ভ্লগার বনে যান তিনি। ডাইন আউট উইথ আদনান নামে তার ইউটিউব শো-টি রকমারি খাবারের সন্ধান এবং নিজস্ব ঢঙের উপস্থাপনার কারণে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।দীর্ঘদিন খাবার নিয়ে কাজ করলেও হিল্লোলের কিন্তু রেস্তোরাঁ খোলার কোনো ইচ্ছে শুরুতে ছিল না। এই পুরো উদ্যোগ ও কৃতিত্বের পেছনে রয়েছেন তার স্ত্রী নওশীন। এ বিষয়ে ফেসবুকে হিল্লোল লেখেন, ২০১৭ সালের মার্চ থেকে আমার খাদ্য অভিযানের শুরু। এরপর অনেকেই রেস্টুরেন্ট খোলার প্রলোভন দেখিয়েছেন, কিন্তু ঝামেলার ভয়ে আমি জড়াতে চাইনি। তবে গত বছর হুট করেই আমার বউ (নওশীন) লং আইল্যান্ডে আমাদের বাসার পাশেই একটা সুন্দর রেস্টুরেন্ট স্পেস পেয়ে জেদ ধরল যে রেস্টুরেন্ট করবেই। মূলত তার গোঁয়ার্তুমির কারণেই আজ এটি বাস্তবে রূপ পেল।[TECHTARANGA-POST:757]হিল্লোল জানান, তাদের রেস্তোরাঁয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মুখরোচক আইটেমের পাশাপাশি পাওয়া যাবে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত কাচ্চি বিরিয়ানি। রসিকতা করে হিল্লোল আরও বলেন, চেষ্টা করে দেখছি, এবার আমেরিকানদের আমাদের ঢাকার কাচ্চি খাওয়া শেখানো যায় কিনা!