মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও হয়নি সেতু: টাঙ্গাইলে ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে কাঠের সাঁকো পার হচ্ছে ১৫ গ্রাম

দেশের স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাসিন্দাদের ভাগ্যে জোটেনি লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু। উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে অন্তত ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি জরাজীর্ণ কাঠের সেতু ব্যবহার করে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন।ফুলকি ইউনিয়নের কৌলজানী বাজার এলাকায় অবস্থিত এই অস্থায়ী সেতুটিই ফুলকি, খাতুড়া, বোল্লা ও কাজিপুরসহ পার্শ্ববর্তী কালিহাতি উপজেলার রামপুর ও গান্ধিনা এলাকার বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান পথ। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন শত শত স্কুলগামী ছাত্রছাত্রী, নিত্যযাত্রী এবং সিএনজি-অটোরিকশার মতো যানবাহনগুলো দুলতে থাকা এই নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়ে পার হচ্ছে।দীর্ঘদিন সরকারি সহায়তা না পেয়ে প্রায় ১২ বছর আগে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে এই কাঠের সেতুটি নির্মাণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সেতুর প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু ভোট শেষ হলেই তারা উধাও হয়ে যান। অনেক সাংসদ এলেন আর গেলেন, আমাদের দাবি কেউ পূরণ করেনি।[TECHTARANGA-POST:643]অটোরিকশা চালক আজমত আলী তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সেতুর তক্তা ভেঙে আমার অটোরিকশাটি একবার নিচে পড়ে গিয়েছিল। সবার সাহায্য নিয়ে সেটা তুলতে হয়েছে। প্রতিদিন ভয়ের মধ্যে এই পথ দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।কৌলজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লুৎফর-শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কৌলজানী নওশরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই নড়বড়ে পথটি ব্যবহার করে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।[TECHTARANGA-POST:647]এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফত্তাহুর রহমান জানান, প্রস্তাবিত খাতুরা সেতুটি একটি সরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেলেই দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও হয়নি সেতু: টাঙ্গাইলে ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে কাঠের সাঁকো পার হচ্ছে ১৫ গ্রাম