প্রতিবছর জুন মাস শেষ হলেই দেশের লাখ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের হৃদকম্পন শুরু হয়। আগের মাসের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়তি বিলের কাগজ হাতে পেয়ে সাধারণ মানুষের চোখ কপালে ওঠার উপক্রম হয়। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক মফস্বল পর্যন্ত এক অবর্ণনীয় ‘ভূতুড়ে বিলের’ তাণ্ডব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে প্রচণ্ড গরমের ওপর ঘন ঘন লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বোঝা— দুইয়ে মিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন উঠছে, একই বাসাবাড়িতে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র যুক্ত না হওয়া এবং লোডশেডিংয়ের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও কীভাবে বিদ্যুৎ বিল এত অলৌকিকভাবে বৃদ্ধি পায়? বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বশীলরা এর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর। তবে মূল সমস্যাটি যে অন্য জায়গায়, তা সাধারণ গ্রাহকেরাও এখন বুঝতে পারছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে বছরের অন্যান্য সময়ে নিয়মিত মিটার রিডিং না নিয়ে জুনে এসে এক এককালীন বড় রিডিং যোগ করা হয়। এর ফলে একজন সাধারণ গ্রাহক অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিদ্যুতের ‘উচ্চ স্ল্যাবে’ (Higher Slab) প্রবেশ করেন এবং তাঁকে বহুগুণ বেশি মূল্যে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। কেবল পোস্টপেইড নয়, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরাও কম ভোগান্তিতে নেই; রিচার্জের কয়েকদিনের মাথায় টাকা হাওয়া হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এখন অহরহ। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, অর্থবছরের সমাপনীতে সংস্থাসমূহের সিস্টেম লস কম দেখিয়ে আড়াল করা কিংবা কৃত্রিম রাজস্ব বৃদ্ধির জন্যই জুনে এই ‘বিল কারসাজি’র আশ্রয় নেওয়া হয় কি না— সে প্রশ্নও এখন জোরালো হচ্ছে।
দু-একটি জায়গায় ‘টাইপিং ভুল’ বা ‘সফটওয়্যার বিভ্রাট’ বলে শত কোটি বা লাখ টাকার বিল সংশোধন করে ক্ষান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ যে গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরে প্রতিবাদ জানাতে পারছেন না, তাঁকেই এই অন্যায্য আর্থিক দণ্ড নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে।
আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য— সেবাখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার নামে এমন অসচ্ছতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা শতভাগ নষ্ট হবে। ভুল বিলের কারণে যেন কোনো অবস্থাতেই কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা জরিমানা না করা হয়, সে বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর আইনি বা প্রশাসনিক সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। কেবল একটি ‘অভিযোগ সেল’ গঠন করেই দায় এড়ানো যাবে না; মিটার রিডিংয়ে অনিয়ম ও ভুয়া বিল তৈরির পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।
বিদ্যুৎ বিলের এই ‘জুন সিন্ড্রোম’ চিরতরে বন্ধ হোক— এটাই সাধারণ মানুষের আকুল প্রত্যাশা।
বিষয় : বিদ্যুৎ বিল

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রতিবছর জুন মাস শেষ হলেই দেশের লাখ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের হৃদকম্পন শুরু হয়। আগের মাসের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়তি বিলের কাগজ হাতে পেয়ে সাধারণ মানুষের চোখ কপালে ওঠার উপক্রম হয়। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক মফস্বল পর্যন্ত এক অবর্ণনীয় ‘ভূতুড়ে বিলের’ তাণ্ডব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে প্রচণ্ড গরমের ওপর ঘন ঘন লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বোঝা— দুইয়ে মিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন উঠছে, একই বাসাবাড়িতে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র যুক্ত না হওয়া এবং লোডশেডিংয়ের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও কীভাবে বিদ্যুৎ বিল এত অলৌকিকভাবে বৃদ্ধি পায়? বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বশীলরা এর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর। তবে মূল সমস্যাটি যে অন্য জায়গায়, তা সাধারণ গ্রাহকেরাও এখন বুঝতে পারছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে বছরের অন্যান্য সময়ে নিয়মিত মিটার রিডিং না নিয়ে জুনে এসে এক এককালীন বড় রিডিং যোগ করা হয়। এর ফলে একজন সাধারণ গ্রাহক অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিদ্যুতের ‘উচ্চ স্ল্যাবে’ (Higher Slab) প্রবেশ করেন এবং তাঁকে বহুগুণ বেশি মূল্যে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। কেবল পোস্টপেইড নয়, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরাও কম ভোগান্তিতে নেই; রিচার্জের কয়েকদিনের মাথায় টাকা হাওয়া হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এখন অহরহ। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, অর্থবছরের সমাপনীতে সংস্থাসমূহের সিস্টেম লস কম দেখিয়ে আড়াল করা কিংবা কৃত্রিম রাজস্ব বৃদ্ধির জন্যই জুনে এই ‘বিল কারসাজি’র আশ্রয় নেওয়া হয় কি না— সে প্রশ্নও এখন জোরালো হচ্ছে।
দু-একটি জায়গায় ‘টাইপিং ভুল’ বা ‘সফটওয়্যার বিভ্রাট’ বলে শত কোটি বা লাখ টাকার বিল সংশোধন করে ক্ষান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ যে গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরে প্রতিবাদ জানাতে পারছেন না, তাঁকেই এই অন্যায্য আর্থিক দণ্ড নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে।
আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য— সেবাখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার নামে এমন অসচ্ছতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা শতভাগ নষ্ট হবে। ভুল বিলের কারণে যেন কোনো অবস্থাতেই কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা জরিমানা না করা হয়, সে বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর আইনি বা প্রশাসনিক সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। কেবল একটি ‘অভিযোগ সেল’ গঠন করেই দায় এড়ানো যাবে না; মিটার রিডিংয়ে অনিয়ম ও ভুয়া বিল তৈরির পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।
বিদ্যুৎ বিলের এই ‘জুন সিন্ড্রোম’ চিরতরে বন্ধ হোক— এটাই সাধারণ মানুষের আকুল প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন