মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পাদকীয়

ব্যবসা বনাম নৈতিকতা: পবিত্র কোরআন আমাদের যা শেখায়

ব্যবসা বনাম নৈতিকতা: পবিত্র কোরআন আমাদের যা শেখায়

মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ হেদায়েত ও সার্বিক কল্যাণের মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন কেবল ইবাদত-বন্দেগি বা পরকালীন জীবনের নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের পার্থিব জীবনকে সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী করতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা উপস্থাপন করেছে ইসলাম। বিশেষ করে দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনে যে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক অর্থনীতির জন্যও এক অনন্য পথপ্রদর্শক।

ইসলামে ব্যবসাকে উপার্জনের অন্যতম সম্মানজনক ও হালাল মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তাতে কঠোরভাবে যুক্ত করা হয়েছে নৈতিকতার শর্ত। পবিত্র কোরআনে ‘তিজারা’ (ব্যবসা), ‘বাই’ (বেচাকেনা) এবং ‘শিরা’ (ক্রয়) শব্দগুলোর বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করে শোষণমুক্ত অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছেন।

কোরআনিক নীতিমালার মূল কথাই হলো ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি, ওজনে সঠিক পরিমাপ বজায় রাখা এবং অন্যায্য মুনাফার লোভে মানুষকে প্রতারিত না করা। সুরা মুতাফফিফিনে মাপে কম দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে, যা আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনায় ভোক্তা অধিকার রক্ষার সবচেয়ে বড় মূলনীতি। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধ এড়াতে সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াতে ঋণ ও আর্থিক লেনদেন লিখিত রাখার যে তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তা ব্যবসায়িক দলিল ও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব সংরক্ষণের গুরুত্ব বহন করে।

ইসলামিক অর্থনীতি কেবল নির্দিষ্ট সীমানায় বন্দি নয়; জীবিকার তাগিদে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ কিংবা সমুদ্রপথে নৌ-বাণিজ্যের প্রসারকেও কোরআনে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ অনুসন্ধানের উপায় হিসেবে উৎসাহিত করা হয়েছে। একই সাথে বাজার ও মরশুমের উপযোগী বাণিজ্যিক দূরদর্শিতার উদাহরণ পাওয়া যায় সুরা কুরাইশে বর্ণিত শীত ও গ্রীষ্মকালীন বাণিজ্য সফরের বর্ণনায়।

তবে ইসলামে অর্থনৈতিক উন্নতির চেয়ে ঈমান ও নৈতিক মূল্যবোধের স্থান সবসময় ওপরে। ব্যবসা-বাণিজ্য যেন মানুষকে আল্লাহর স্মরণ, সালাত ও মানবিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত না করে—সে বিষয়ে কোরআনে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। সুরা জুমুআয় জুমার আজানের সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা স্থগিত রেখে আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হওয়ার নির্দেশ প্রমাণ করে, একজন মুমিনের জীবনে দ্বিনদারি ও উপার্জনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

আজকের বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থায় যখন সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট, ভেজাল ও প্রতারণার মহোৎসব চলছে, তখন কোরআনের এই সার্বজনীন অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা মেনে হালাল, সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করা গেলে কেবল একজন ব্যবসায়ী হিসেবেই সফল হওয়া যাবে না, বরং সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতেও প্রতিষ্ঠিত হবে শোষণহীন ও সাম্যবাদী এক মানবিক পরিবেশ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ব্যবসা বনাম নৈতিকতা: পবিত্র কোরআন আমাদের যা শেখায়

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ হেদায়েত ও সার্বিক কল্যাণের মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন কেবল ইবাদত-বন্দেগি বা পরকালীন জীবনের নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের পার্থিব জীবনকে সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী করতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা উপস্থাপন করেছে ইসলাম। বিশেষ করে দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনে যে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক অর্থনীতির জন্যও এক অনন্য পথপ্রদর্শক।

ইসলামে ব্যবসাকে উপার্জনের অন্যতম সম্মানজনক ও হালাল মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তাতে কঠোরভাবে যুক্ত করা হয়েছে নৈতিকতার শর্ত। পবিত্র কোরআনে ‘তিজারা’ (ব্যবসা), ‘বাই’ (বেচাকেনা) এবং ‘শিরা’ (ক্রয়) শব্দগুলোর বহুবিধ ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করে শোষণমুক্ত অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছেন।

কোরআনিক নীতিমালার মূল কথাই হলো ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি, ওজনে সঠিক পরিমাপ বজায় রাখা এবং অন্যায্য মুনাফার লোভে মানুষকে প্রতারিত না করা। সুরা মুতাফফিফিনে মাপে কম দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে, যা আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনায় ভোক্তা অধিকার রক্ষার সবচেয়ে বড় মূলনীতি। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধ এড়াতে সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াতে ঋণ ও আর্থিক লেনদেন লিখিত রাখার যে তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তা ব্যবসায়িক দলিল ও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব সংরক্ষণের গুরুত্ব বহন করে।

ইসলামিক অর্থনীতি কেবল নির্দিষ্ট সীমানায় বন্দি নয়; জীবিকার তাগিদে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ কিংবা সমুদ্রপথে নৌ-বাণিজ্যের প্রসারকেও কোরআনে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ অনুসন্ধানের উপায় হিসেবে উৎসাহিত করা হয়েছে। একই সাথে বাজার ও মরশুমের উপযোগী বাণিজ্যিক দূরদর্শিতার উদাহরণ পাওয়া যায় সুরা কুরাইশে বর্ণিত শীত ও গ্রীষ্মকালীন বাণিজ্য সফরের বর্ণনায়।

তবে ইসলামে অর্থনৈতিক উন্নতির চেয়ে ঈমান ও নৈতিক মূল্যবোধের স্থান সবসময় ওপরে। ব্যবসা-বাণিজ্য যেন মানুষকে আল্লাহর স্মরণ, সালাত ও মানবিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত না করে—সে বিষয়ে কোরআনে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। সুরা জুমুআয় জুমার আজানের সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা স্থগিত রেখে আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হওয়ার নির্দেশ প্রমাণ করে, একজন মুমিনের জীবনে দ্বিনদারি ও উপার্জনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

আজকের বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থায় যখন সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট, ভেজাল ও প্রতারণার মহোৎসব চলছে, তখন কোরআনের এই সার্বজনীন অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা মেনে হালাল, সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করা গেলে কেবল একজন ব্যবসায়ী হিসেবেই সফল হওয়া যাবে না, বরং সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতেও প্রতিষ্ঠিত হবে শোষণহীন ও সাম্যবাদী এক মানবিক পরিবেশ।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো