প্রতিদিনের রুটিন একই রকম আছে, কিন্তু কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর শরীর ভীষণ ক্লান্ত লাগছে? আগে যেখানে চটজলদি সব কাজ শেষ করে ফেলা যেত, আজকাল সেখানে যেন অলসতা এসে ভর করছে? শারীরিকভাবে ফিট থাকার পরও যদি আপনার সারা দিন এমন অহেতুক ক্লান্তি ও অলসতা কাজ করে, তবে বুঝতে হবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
সঠিক জীবনযাত্রা ও নিয়মতান্ত্রিক ছোট কিছু অভ্যাস আমাদের শরীরের ভেতরের শক্তির মাত্রা (Energy Level) প্রাকৃতিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার হারিয়ে যাওয়া সেই চাটুয্য ও উদ্যম ফিরিয়ে আনতে রুটিনে যে পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি, তা জেনে নিন:
সকালে ঘুম থেকে চোখ খুলেই এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস করুন। রাতে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পর শরীরে যে মৃদু পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তা দূর করতে এটি দারুণ কাজ করে। এ ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে সতেজ ও সক্রিয় করতেও পানির বিকল্প নেই।
ঘুম ভাঙার ৩০ মিনিটের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সকালের রোদে কাটান। সকালের সূর্যের আলো শরীরের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে শরীর ও মনের স্বাভাবিক 'বায়োলজিক্যাল ক্লক' বা ঘুম-জাগরণের চক্র ঠিক রাখে।
মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটের ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ অথবা একটু দ্রুত হাঁটা আপনার পুরো শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেবে। এরপর সকালের ভারী নাশতা কোনো অবস্থাতেই বাদ দেওয়া যাবে না। নাশতায় ওটস, ডিম, লাল আটার রুটি কিংবা ফলমূলের মতো জটিল শর্করা (Complex Carbohydrate) ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
একবারে অনেক বেশি পরিমাণে না খেয়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরপর অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খান। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে কমে না এবং হঠাৎ ক্লান্তি আসে না। পাশাপাশি সারাদিন কাজের টেবিলে পানির বোতল রাখুন এবং অল্প অল্প করে চুমুক দিন। শরীরে মাত্র ২ শতাংশ পানির ঘাটতি হলেও মারাত্মক ক্লান্তি ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
ক্লান্তি কাটাতে ঘন ঘন অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া বন্ধ করুন। এগুলো তাৎক্ষণিক সাময়িক উদ্দীপনা দিলেও কিছুক্ষণ পর শরীরকে আরও বেশি অবসাদগ্রস্ত করে ফেলে। বিশেষ করে দুপুরের পর কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। এ ছাড়া একটানা বসে কাজ না করে প্রতি ৫০-৬০ মিনিট পর ৫ মিনিটের ছোট বিরতি নিন, একটু হেঁটে আসুন।
দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের ভেতরের শক্তি শুষে নেয়। ক্লান্তি দূর করতে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep Breathing) বা মেডিটেশন করুন। রাতের ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস বজায় রাখুন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। ডিজিটাল ডিভাইসের 'ব্লু-লাইট' রাতের স্বাভাবিক ঘুমে বড় ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগেই রাতের খাবার শেষ করুন।
বিশেষ পরামর্শ:
জীবনযাত্রায় এসব ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরও যদি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনার তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা বজায় থাকে, তবে রক্তে কোনো ভিটামিনের ঘাটতি বা থাইরয়েডসহ অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিষয় : জীবনধারা জেনে নিন খাদ্যাভ্যাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রতিদিনের রুটিন একই রকম আছে, কিন্তু কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর শরীর ভীষণ ক্লান্ত লাগছে? আগে যেখানে চটজলদি সব কাজ শেষ করে ফেলা যেত, আজকাল সেখানে যেন অলসতা এসে ভর করছে? শারীরিকভাবে ফিট থাকার পরও যদি আপনার সারা দিন এমন অহেতুক ক্লান্তি ও অলসতা কাজ করে, তবে বুঝতে হবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
সঠিক জীবনযাত্রা ও নিয়মতান্ত্রিক ছোট কিছু অভ্যাস আমাদের শরীরের ভেতরের শক্তির মাত্রা (Energy Level) প্রাকৃতিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার হারিয়ে যাওয়া সেই চাটুয্য ও উদ্যম ফিরিয়ে আনতে রুটিনে যে পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি, তা জেনে নিন:
সকালে ঘুম থেকে চোখ খুলেই এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস করুন। রাতে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পর শরীরে যে মৃদু পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তা দূর করতে এটি দারুণ কাজ করে। এ ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে সতেজ ও সক্রিয় করতেও পানির বিকল্প নেই।
ঘুম ভাঙার ৩০ মিনিটের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সকালের রোদে কাটান। সকালের সূর্যের আলো শরীরের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে শরীর ও মনের স্বাভাবিক 'বায়োলজিক্যাল ক্লক' বা ঘুম-জাগরণের চক্র ঠিক রাখে।
মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটের ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ অথবা একটু দ্রুত হাঁটা আপনার পুরো শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেবে। এরপর সকালের ভারী নাশতা কোনো অবস্থাতেই বাদ দেওয়া যাবে না। নাশতায় ওটস, ডিম, লাল আটার রুটি কিংবা ফলমূলের মতো জটিল শর্করা (Complex Carbohydrate) ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
একবারে অনেক বেশি পরিমাণে না খেয়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরপর অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খান। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে কমে না এবং হঠাৎ ক্লান্তি আসে না। পাশাপাশি সারাদিন কাজের টেবিলে পানির বোতল রাখুন এবং অল্প অল্প করে চুমুক দিন। শরীরে মাত্র ২ শতাংশ পানির ঘাটতি হলেও মারাত্মক ক্লান্তি ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
ক্লান্তি কাটাতে ঘন ঘন অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া বন্ধ করুন। এগুলো তাৎক্ষণিক সাময়িক উদ্দীপনা দিলেও কিছুক্ষণ পর শরীরকে আরও বেশি অবসাদগ্রস্ত করে ফেলে। বিশেষ করে দুপুরের পর কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। এ ছাড়া একটানা বসে কাজ না করে প্রতি ৫০-৬০ মিনিট পর ৫ মিনিটের ছোট বিরতি নিন, একটু হেঁটে আসুন।
দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের ভেতরের শক্তি শুষে নেয়। ক্লান্তি দূর করতে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep Breathing) বা মেডিটেশন করুন। রাতের ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় মেনে চলুন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস বজায় রাখুন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। ডিজিটাল ডিভাইসের 'ব্লু-লাইট' রাতের স্বাভাবিক ঘুমে বড় ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগেই রাতের খাবার শেষ করুন।
বিশেষ পরামর্শ:
জীবনযাত্রায় এসব ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরও যদি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনার তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা বজায় থাকে, তবে রক্তে কোনো ভিটামিনের ঘাটতি বা থাইরয়েডসহ অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আপনার মতামত লিখুন