মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

সম্পাদকীয়

নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল: প্রত্যাশা ও দায়িত্বের নতুন অধ্যায়

নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল: প্রত্যাশা ও দায়িত্বের নতুন অধ্যায়

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটদানের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের এই মুহূর্তে দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নজির ছিল। এরপর টানা কয়েকজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার আবার সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করলেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকাশের দিক থেকে এ ঘটনা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গত ২৪ জুলাই তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর দায়িত্ব পালনের সমাপ্তিও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকা এই রাজনীতিক দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ধৈর্য, সংযম ও কূটনৈতিক রাজনৈতিক আচরণের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন।

তবে রাষ্ট্রপতির পদ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হবে তিনি পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি—কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের নন।

বর্তমান সময়ে জাতীয় জীবনে ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার যে প্রয়োজন তৈরি হয়েছে, তা পূরণে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর সাংবিধানিক অবস্থান ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আমরা আশা করি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবেন। দল-মতনির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর দায়িত্বশীল অবস্থান থাকবে—এটাই প্রত্যাশা।

দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা কাজে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল কার্যকাল কামনা করি। তাঁর নেতৃত্বে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে—এই আমাদের প্রত্যাশা।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল: প্রত্যাশা ও দায়িত্বের নতুন অধ্যায়

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটদানের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের এই মুহূর্তে দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নজির ছিল। এরপর টানা কয়েকজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার আবার সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করলেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকাশের দিক থেকে এ ঘটনা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গত ২৪ জুলাই তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর দায়িত্ব পালনের সমাপ্তিও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকা এই রাজনীতিক দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ধৈর্য, সংযম ও কূটনৈতিক রাজনৈতিক আচরণের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন।

তবে রাষ্ট্রপতির পদ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হবে তিনি পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি—কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের নন।

বর্তমান সময়ে জাতীয় জীবনে ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার যে প্রয়োজন তৈরি হয়েছে, তা পূরণে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর সাংবিধানিক অবস্থান ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আমরা আশা করি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবেন। দল-মতনির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর দায়িত্বশীল অবস্থান থাকবে—এটাই প্রত্যাশা।

দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা কাজে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল কার্যকাল কামনা করি। তাঁর নেতৃত্বে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে—এই আমাদের প্রত্যাশা।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো