মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

জাতীয় প্রতীক ও বীরত্বগাথার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনই হোক নাগরিকত্বের প্রথম পাঠ

স্বাধীনতা দিবসের শপথ: দেশপ্রেম হোক প্রাত্যহিক জীবনের নিয়মিত চর্চা

স্বাধীনতা দিবসের শপথ: দেশপ্রেম হোক প্রাত্যহিক জীবনের নিয়মিত চর্চা
ছবি : সংগৃহীত

আজ ২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ৫৫ বছর আগে এই দিনে যে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বাধীন ভূখণ্ড এবং একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ধারণায় এই জাতীয়তাবোধ কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং এটি একটি সামষ্টিক আবেগ ও যূথবদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী বেনেডিক্ট এন্ডারসনের ভাষায়, জাতি হলো একটি কল্পিত সম্প্রদায়, যেখানে নাগরিকেরা একটি অভিন্ন ঐতিহ্যের সুতোয় নিজেদের যুক্ত মনে করেন। এই যুক্ত থাকার বোধই হলো আধুনিক দেশপ্রেমের মূল ভিত্তি।

একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ রাতারাতি তৈরি হয় না। এটি গড়ে ওঠে হাজার বছরের ইতিহাস এবং দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের স্মৃতির মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের জাতীয় পরিচয়ের মূল স্তম্ভ হলো ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। অ্যান্থনি ডি. স্মিথ যেমনটি বলেছেন, একটি জাতির ভিত্তি রচিত হয় তার বীরত্বগাথা ও সামষ্টিক অভিজ্ঞতার ওপর। আমাদের জন্য সেই বীরত্বগাথা হলো লাখো শহীদের আত্মত্যাগ। ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যা থেকে শুরু করে ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা—এই সব কিছুই আমাদের জাতীয় মানসপটে এক গভীর ক্ষত ও গৌরবের সংমিশ্রণ, যা দেশপ্রেমের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দেশপ্রেম কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, বরং এটি প্রকাশের জন্য প্রয়োজন হয় নানা প্রতীকী ব্যবস্থা। জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় বীরদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন—এগুলোই একজন নাগরিকের আনুগত্য ও ভালোবাসার দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে দিন শুরু করার যে ঐতিহ্য, তার মূল উদ্দেশ্য হলো কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ে শৈশব থেকেই স্বদেশের প্রতি মমত্ববোধের বীজ বপন করা।

জাতীয় পরিচয় কেবল রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তাকে মানুষের আবেগ ও কল্পনার গভীরে প্রোথিত হতে হয়। ইতিহাস বিস্মৃত জাতি কখনো সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাসকে কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাত্যহিক জীবনের আচরণে প্রতিফলিত করতে হবে।

পরিশেষে বলতে হয়, ২৬শে মার্চ কেবল ক্যালেন্ডারের একটি লাল তারিখ নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের দিন। দেশকে ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি নিরন্তর সাধনা। নিয়মিত চর্চা ও সম্মানের মাধ্যমেই এই বোধ পরিপক্বতা পায়। আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের শপথ হোক—জাতীয় প্রতীকগুলোর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ইতিহাসের সত্যকে ধারণ করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি প্রকৃত দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলব।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


স্বাধীনতা দিবসের শপথ: দেশপ্রেম হোক প্রাত্যহিক জীবনের নিয়মিত চর্চা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

আজ ২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ৫৫ বছর আগে এই দিনে যে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বাধীন ভূখণ্ড এবং একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ধারণায় এই জাতীয়তাবোধ কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং এটি একটি সামষ্টিক আবেগ ও যূথবদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী বেনেডিক্ট এন্ডারসনের ভাষায়, জাতি হলো একটি কল্পিত সম্প্রদায়, যেখানে নাগরিকেরা একটি অভিন্ন ঐতিহ্যের সুতোয় নিজেদের যুক্ত মনে করেন। এই যুক্ত থাকার বোধই হলো আধুনিক দেশপ্রেমের মূল ভিত্তি।

একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ রাতারাতি তৈরি হয় না। এটি গড়ে ওঠে হাজার বছরের ইতিহাস এবং দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের স্মৃতির মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের জাতীয় পরিচয়ের মূল স্তম্ভ হলো ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। অ্যান্থনি ডি. স্মিথ যেমনটি বলেছেন, একটি জাতির ভিত্তি রচিত হয় তার বীরত্বগাথা ও সামষ্টিক অভিজ্ঞতার ওপর। আমাদের জন্য সেই বীরত্বগাথা হলো লাখো শহীদের আত্মত্যাগ। ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যা থেকে শুরু করে ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা—এই সব কিছুই আমাদের জাতীয় মানসপটে এক গভীর ক্ষত ও গৌরবের সংমিশ্রণ, যা দেশপ্রেমের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দেশপ্রেম কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, বরং এটি প্রকাশের জন্য প্রয়োজন হয় নানা প্রতীকী ব্যবস্থা। জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় বীরদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন—এগুলোই একজন নাগরিকের আনুগত্য ও ভালোবাসার দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে দিন শুরু করার যে ঐতিহ্য, তার মূল উদ্দেশ্য হলো কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ে শৈশব থেকেই স্বদেশের প্রতি মমত্ববোধের বীজ বপন করা।

জাতীয় পরিচয় কেবল রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তাকে মানুষের আবেগ ও কল্পনার গভীরে প্রোথিত হতে হয়। ইতিহাস বিস্মৃত জাতি কখনো সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাসকে কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাত্যহিক জীবনের আচরণে প্রতিফলিত করতে হবে।

পরিশেষে বলতে হয়, ২৬শে মার্চ কেবল ক্যালেন্ডারের একটি লাল তারিখ নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের দিন। দেশকে ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি নিরন্তর সাধনা। নিয়মিত চর্চা ও সম্মানের মাধ্যমেই এই বোধ পরিপক্বতা পায়। আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের শপথ হোক—জাতীয় প্রতীকগুলোর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ইতিহাসের সত্যকে ধারণ করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি প্রকৃত দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলব।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো