বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রসারে সংবাদ এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই অগ্রগতির সমান্তরালে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এক আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নামসর্বস্ব অসংখ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও তথাকথিত অনলাইন চ্যানেল। হাতে একটি স্মার্টফোন আর গলায় ঝুলানো একটি কার্ড থাকলেই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন একদল মানুষ। কিন্তু দিনশেষে প্রশ্ন উঠেছে—তাদের সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং খবরের মান নিয়ে।
সচেতন মহলের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব স্বঘোষিত সাংবাদিকদের ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সাংবাদিকতার বুনিয়াদি জ্ঞান নেই। সাংবাদিকতাকে তারা একটি পেশা নয় বরং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। বর্তমানে এই অপ-সাংবাদিকতার ধরণগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা, যার প্রধান ভিত্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এমন অনেককে দেখা যাচ্ছে যারা সঠিকভাবে একটি বাক্য গঠন করতে পারেন না কিংবা সংবাদের ন্যূনতম এথিক্স (Ethics) বা নীতিমালা সম্পর্কেও অজ্ঞাত। এই অপ-সাংবাদিকতার ফলে সাধারণ মানুষ কেবল বিভ্রান্তই হচ্ছে না, বরং প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা সামাজিকভাবে মর্যাদাহানির শিকার হচ্ছেন। জনদুর্ভোগের প্রকৃত খবরগুলোও এখন এই আস্থাহীনতার সংকটে পড়ে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সাধারণ জনগণের সাথে আলাপকালে তারা আক্ষেপ করে বলেন,এই ভুঁইফোঁড় সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত জনদুর্ভোগের খবরগুলো এখন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি বা সাধারণ ব্যবসায়ীরাও এই অপ-সাংবাদিকতার ভয়ে তটস্থ থাকেন। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়াই লাইভ করে দেওয়া বা সম্মানহানি করার সংস্কৃতি এখন মফস্বল এলাকায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর ফলে প্রকৃত জনস্বার্থের খবরগুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
আমাদের করণীয় কী?
সাংবাদিকতার ঐতিহ্য রক্ষা করতে এবং সুস্থ ধারার তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখতে আমাদের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে:
সবশেষে বলা যায়, প্রশাসনের কঠোর তদারকি এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে এই অপ-সাংবাদিকতার লাগাম টেনে ধরতে। সাংবাদিকতা হোক সত্যের বাহন, ব্যক্তিগত লালসার মাধ্যম নয়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রসারে সংবাদ এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই অগ্রগতির সমান্তরালে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এক আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নামসর্বস্ব অসংখ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও তথাকথিত অনলাইন চ্যানেল। হাতে একটি স্মার্টফোন আর গলায় ঝুলানো একটি কার্ড থাকলেই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন একদল মানুষ। কিন্তু দিনশেষে প্রশ্ন উঠেছে—তাদের সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং খবরের মান নিয়ে।
সচেতন মহলের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব স্বঘোষিত সাংবাদিকদের ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সাংবাদিকতার বুনিয়াদি জ্ঞান নেই। সাংবাদিকতাকে তারা একটি পেশা নয় বরং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। বর্তমানে এই অপ-সাংবাদিকতার ধরণগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা, যার প্রধান ভিত্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এমন অনেককে দেখা যাচ্ছে যারা সঠিকভাবে একটি বাক্য গঠন করতে পারেন না কিংবা সংবাদের ন্যূনতম এথিক্স (Ethics) বা নীতিমালা সম্পর্কেও অজ্ঞাত। এই অপ-সাংবাদিকতার ফলে সাধারণ মানুষ কেবল বিভ্রান্তই হচ্ছে না, বরং প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা সামাজিকভাবে মর্যাদাহানির শিকার হচ্ছেন। জনদুর্ভোগের প্রকৃত খবরগুলোও এখন এই আস্থাহীনতার সংকটে পড়ে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সাধারণ জনগণের সাথে আলাপকালে তারা আক্ষেপ করে বলেন,এই ভুঁইফোঁড় সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত জনদুর্ভোগের খবরগুলো এখন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি বা সাধারণ ব্যবসায়ীরাও এই অপ-সাংবাদিকতার ভয়ে তটস্থ থাকেন। কোনো তথ্য যাচাই ছাড়াই লাইভ করে দেওয়া বা সম্মানহানি করার সংস্কৃতি এখন মফস্বল এলাকায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর ফলে প্রকৃত জনস্বার্থের খবরগুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
আমাদের করণীয় কী?
সাংবাদিকতার ঐতিহ্য রক্ষা করতে এবং সুস্থ ধারার তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখতে আমাদের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে:
সবশেষে বলা যায়, প্রশাসনের কঠোর তদারকি এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে এই অপ-সাংবাদিকতার লাগাম টেনে ধরতে। সাংবাদিকতা হোক সত্যের বাহন, ব্যক্তিগত লালসার মাধ্যম নয়।

আপনার মতামত লিখুন