মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

অলৌকিক শক্তির দোহাই দিয়ে অর্থ আদায়; সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রাপ্ত সাংবাদিকরা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি ব্যবস্থা নিলেন ইউএনও ও ওসি।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা: কথিত কবিরাজ বৃষ্টি আক্তারের আস্তানা বন্ধ করল উপজেলা প্রশাসন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা: কথিত কবিরাজ বৃষ্টি আক্তারের আস্তানা বন্ধ করল উপজেলা প্রশাসন
ছবি : দৈনিক নতুন আলো

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামে চিকিৎসার নামে অলৌকিক প্রতারণার এক জাল বিছিয়েছিলেন বৃষ্টি আক্তার নামে এক নারী। সাধারণ মানুষের সরলতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে চলছিল তাঁর এই অবৈধ বাণিজ্য। অবশেষে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপে বন্ধ হলো সেই কথিত কবিরাজি আস্তানা।

গত ৫ জুন (শুক্রবার) মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মহারাজপুর ইউনিয়নের এই দুর্গম এলাকায় বৃষ্টি আক্তার নিজেকে ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে আসছিলেন। তাঁর চিকিৎসার ধরণ দেখে খোদ সংবাদকর্মীরাও তাজ্জব বনে যান। কথিত ওই কবিরাজের গোপন কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, একদিকে রাখা পবিত্র কোরআন শরীফ, আর ঠিক তার পাশেই শোভা পাচ্ছে সনাতন ধর্মের ত্রিশূল ও পূজার নানাবিধ সামগ্রী।


এই উপাসনার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃষ্টি আক্তার সাংবাদিকদের সামনেই অদ্ভুত দাবি করে বসেন। তিনি বলেন, কালী, মহাদেব ও জিন আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। যেহেতু হিন্দুধর্মও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই কোরআনের পাশে ত্রিশূল রাখলে কোনো সমস্যা নেই।

কথিত এই কবিরাজ মূলত মানুষের পারিবারিক সংকট, ব্যক্তিগত ঝামেলা ও শিশুদের রোগ বালাই নিয়ে কাজ করতেন। ঝাড়ফুঁক ও শিশুদের তথাকথিত চিকিৎসার জন্য প্রতিবার ৩৫০ টাকা এবং কোনো বাড়ি বা ঘর বন্ধ দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিতেন ২১০০ টাকা।

সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার পর স্থানীয় সংবাদকর্মীরা চরম বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির স্বামী আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের কাজে সরাসরি বাধা দেন এবং একপর্যায়ে উগ্র রূপ ধারণ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

বিষয়টি মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনের হস্তক্ষেপে স্থানটি পরিষ্কার করা হয়। ছবি : সংগ্রহ

সরেজমিনে ভণ্ডামির প্রমাণ পেয়ে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টি আক্তারের এই অননুমোদিত কবিরাজি আস্তানা বন্ধের কড়া নির্দেশ দেন এবং ঘর থেকে বিতর্কিত সকল সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

অভিযান শেষে ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির বলেন, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে এ ধরনের অনুমোদনহীন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন চেষ্টা করা হলে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখেন। এই প্রতারণা চক্রের পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

বিষয় : মুকসুদপুর গোপালগঞ্জ প্রতারণা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা: কথিত কবিরাজ বৃষ্টি আক্তারের আস্তানা বন্ধ করল উপজেলা প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামে চিকিৎসার নামে অলৌকিক প্রতারণার এক জাল বিছিয়েছিলেন বৃষ্টি আক্তার নামে এক নারী। সাধারণ মানুষের সরলতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে চলছিল তাঁর এই অবৈধ বাণিজ্য। অবশেষে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপে বন্ধ হলো সেই কথিত কবিরাজি আস্তানা।

গত ৫ জুন (শুক্রবার) মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মহারাজপুর ইউনিয়নের এই দুর্গম এলাকায় বৃষ্টি আক্তার নিজেকে ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে আসছিলেন। তাঁর চিকিৎসার ধরণ দেখে খোদ সংবাদকর্মীরাও তাজ্জব বনে যান। কথিত ওই কবিরাজের গোপন কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, একদিকে রাখা পবিত্র কোরআন শরীফ, আর ঠিক তার পাশেই শোভা পাচ্ছে সনাতন ধর্মের ত্রিশূল ও পূজার নানাবিধ সামগ্রী।


এই উপাসনার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃষ্টি আক্তার সাংবাদিকদের সামনেই অদ্ভুত দাবি করে বসেন। তিনি বলেন, কালী, মহাদেব ও জিন আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। যেহেতু হিন্দুধর্মও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই কোরআনের পাশে ত্রিশূল রাখলে কোনো সমস্যা নেই।

কথিত এই কবিরাজ মূলত মানুষের পারিবারিক সংকট, ব্যক্তিগত ঝামেলা ও শিশুদের রোগ বালাই নিয়ে কাজ করতেন। ঝাড়ফুঁক ও শিশুদের তথাকথিত চিকিৎসার জন্য প্রতিবার ৩৫০ টাকা এবং কোনো বাড়ি বা ঘর বন্ধ দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিতেন ২১০০ টাকা।

সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার পর স্থানীয় সংবাদকর্মীরা চরম বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির স্বামী আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের কাজে সরাসরি বাধা দেন এবং একপর্যায়ে উগ্র রূপ ধারণ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

বিষয়টি মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনের হস্তক্ষেপে স্থানটি পরিষ্কার করা হয়। ছবি : সংগ্রহ

সরেজমিনে ভণ্ডামির প্রমাণ পেয়ে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টি আক্তারের এই অননুমোদিত কবিরাজি আস্তানা বন্ধের কড়া নির্দেশ দেন এবং ঘর থেকে বিতর্কিত সকল সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

অভিযান শেষে ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির বলেন, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে এ ধরনের অনুমোদনহীন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন চেষ্টা করা হলে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখেন। এই প্রতারণা চক্রের পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো