গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামে চিকিৎসার নামে অলৌকিক প্রতারণার এক জাল বিছিয়েছিলেন বৃষ্টি আক্তার নামে এক নারী। সাধারণ মানুষের সরলতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে চলছিল তাঁর এই অবৈধ বাণিজ্য। অবশেষে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপে বন্ধ হলো সেই কথিত কবিরাজি আস্তানা।
গত ৫ জুন (শুক্রবার) মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহারাজপুর ইউনিয়নের এই দুর্গম এলাকায় বৃষ্টি আক্তার নিজেকে ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে আসছিলেন। তাঁর চিকিৎসার ধরণ দেখে খোদ সংবাদকর্মীরাও তাজ্জব বনে যান। কথিত ওই কবিরাজের গোপন কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, একদিকে রাখা পবিত্র কোরআন শরীফ, আর ঠিক তার পাশেই শোভা পাচ্ছে সনাতন ধর্মের ত্রিশূল ও পূজার নানাবিধ সামগ্রী।
এই উপাসনার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃষ্টি আক্তার সাংবাদিকদের সামনেই অদ্ভুত দাবি করে বসেন। তিনি বলেন, কালী, মহাদেব ও জিন আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। যেহেতু হিন্দুধর্মও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই কোরআনের পাশে ত্রিশূল রাখলে কোনো সমস্যা নেই।
কথিত এই কবিরাজ মূলত মানুষের পারিবারিক সংকট, ব্যক্তিগত ঝামেলা ও শিশুদের রোগ বালাই নিয়ে কাজ করতেন। ঝাড়ফুঁক ও শিশুদের তথাকথিত চিকিৎসার জন্য প্রতিবার ৩৫০ টাকা এবং কোনো বাড়ি বা ঘর বন্ধ দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিতেন ২১০০ টাকা।
সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার পর স্থানীয় সংবাদকর্মীরা চরম বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির স্বামী আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের কাজে সরাসরি বাধা দেন এবং একপর্যায়ে উগ্র রূপ ধারণ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
বিষয়টি মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনের হস্তক্ষেপে স্থানটি পরিষ্কার করা হয়। ছবি : সংগ্রহ
সরেজমিনে ভণ্ডামির প্রমাণ পেয়ে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টি আক্তারের এই অননুমোদিত কবিরাজি আস্তানা বন্ধের কড়া নির্দেশ দেন এবং ঘর থেকে বিতর্কিত সকল সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।অভিযান শেষে ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির বলেন, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে এ ধরনের অনুমোদনহীন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন চেষ্টা করা হলে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখেন। এই প্রতারণা চক্রের পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামে চিকিৎসার নামে অলৌকিক প্রতারণার এক জাল বিছিয়েছিলেন বৃষ্টি আক্তার নামে এক নারী। সাধারণ মানুষের সরলতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে চলছিল তাঁর এই অবৈধ বাণিজ্য। অবশেষে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপে বন্ধ হলো সেই কথিত কবিরাজি আস্তানা।
গত ৫ জুন (শুক্রবার) মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহারাজপুর ইউনিয়নের এই দুর্গম এলাকায় বৃষ্টি আক্তার নিজেকে ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে আসছিলেন। তাঁর চিকিৎসার ধরণ দেখে খোদ সংবাদকর্মীরাও তাজ্জব বনে যান। কথিত ওই কবিরাজের গোপন কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, একদিকে রাখা পবিত্র কোরআন শরীফ, আর ঠিক তার পাশেই শোভা পাচ্ছে সনাতন ধর্মের ত্রিশূল ও পূজার নানাবিধ সামগ্রী।
এই উপাসনার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃষ্টি আক্তার সাংবাদিকদের সামনেই অদ্ভুত দাবি করে বসেন। তিনি বলেন, কালী, মহাদেব ও জিন আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। যেহেতু হিন্দুধর্মও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই কোরআনের পাশে ত্রিশূল রাখলে কোনো সমস্যা নেই।
কথিত এই কবিরাজ মূলত মানুষের পারিবারিক সংকট, ব্যক্তিগত ঝামেলা ও শিশুদের রোগ বালাই নিয়ে কাজ করতেন। ঝাড়ফুঁক ও শিশুদের তথাকথিত চিকিৎসার জন্য প্রতিবার ৩৫০ টাকা এবং কোনো বাড়ি বা ঘর বন্ধ দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিতেন ২১০০ টাকা।
সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ার পর স্থানীয় সংবাদকর্মীরা চরম বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির স্বামী আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের কাজে সরাসরি বাধা দেন এবং একপর্যায়ে উগ্র রূপ ধারণ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
বিষয়টি মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনের হস্তক্ষেপে স্থানটি পরিষ্কার করা হয়। ছবি : সংগ্রহ
সরেজমিনে ভণ্ডামির প্রমাণ পেয়ে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টি আক্তারের এই অননুমোদিত কবিরাজি আস্তানা বন্ধের কড়া নির্দেশ দেন এবং ঘর থেকে বিতর্কিত সকল সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।অভিযান শেষে ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির বলেন, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে এ ধরনের অনুমোদনহীন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন চেষ্টা করা হলে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখেন। এই প্রতারণা চক্রের পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন