মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

উদ্যোক্তাদের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী: খোলামেলা সংলাপে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন রূপরেখা

সরকার ও দেশের ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চার ঘণ্টাব্যাপী এই দীর্ঘ ও খোলামেলা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা নিশ্চয়ই রয়েছে, তবে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে সেসব বাধা কাটিয়ে ওঠা একেবারেই সম্ভব।তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করছে, তেমনি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব জটিলতা নিরসনে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই স্বীকার করছি যে কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সরকার যে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে, তা নিশ্চয়ই আপনারা অনুধাবন করতে পেরেছেন। বর্তমান সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস পূর্ণ হয়নি, অথচ এর মধ্যেই আমরা উদ্যোক্তাদের সাথে কয়েক দফায় বৈঠকে বসেছি। খাতভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী জানান, আগের বৈঠকে ব্যবসায়ীরা যেসব জটিলতার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর সিংহভাগই ইতোমধ্যে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। এদিনের বৈঠকে উঠে আসা নতুন বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করবে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে বসবে সরকার।সভায় জানানো হয়, পূর্ববর্তী বৈঠকে আলোচিত ২৮টি বড় সমস্যার মধ্যে ২১টি বিষয়ে ইতোমধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং বাকি ৭টি সমস্যা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।অন্যদিকে, বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি গতিশীল রূপরেখা পেশ করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।উদ্যোক্তারা বৈঠকে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, সুনির্দিষ্ট নীতিগত সহায়তা এবং স্থায়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সেই সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বর্তমান উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন তারা।[TECHTARANGA-POST:1083]গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বিভিন্ন শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোক্তাদের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী: খোলামেলা সংলাপে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন রূপরেখা