মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুকসুদপুরে ৩১৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ সভা

মুকসুদপুরে ৩১৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ সভা

রহমাতুল্লিল আলামিন: বিশ্ব মানবতার চরম সংকটে মহানবী (সা.)-এর চিরন্তন কালজয়ী আদর্শ

রহমাতুল্লিল আলামিন: বিশ্ব মানবতার চরম সংকটে মহানবী (সা.)-এর চিরন্তন কালজয়ী আদর্শ

কটিয়াদীতে শানে রেসালাত সম্মেলন, তাপদাহ উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লির ঢল

কটিয়াদীতে শানে রেসালাত সম্মেলন, তাপদাহ উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লির ঢল

মক্কায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ৩ প্রতিযোগীর বিশ্বজয়

মক্কায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ৩ প্রতিযোগীর বিশ্বজয়

সৎ ভাই-বোন ও ভাতিজা কার অধিকার কতটুকু? ফারায়েজ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম হিসাব ও বিভ্রান্তি

সৎ ভাই-বোন ও ভাতিজা কার অধিকার কতটুকু? ফারায়েজ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম হিসাব ও বিভ্রান্তি

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের ৩ প্যাকেজ ঘোষণা, সর্বনিম্ন ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের ৩ প্যাকেজ ঘোষণা, সর্বনিম্ন ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা

পিরামিড ও গির্জার দেশে মিনারের আলো: মেক্সিকোতে ইসলামের নীরব জাগরণ

পিরামিড ও গির্জার দেশে মিনারের আলো: মেক্সিকোতে ইসলামের নীরব জাগরণ

খোদাভীতি ও জবাবদিহিতা: হযরত ওমর (রাঃ)-এর অর্থব্যবস্থা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নীতি!

খোদাভীতি ও জবাবদিহিতা: হযরত ওমর (রাঃ)-এর অর্থব্যবস্থা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নীতি!

ধর্ম

রহমাতুল্লিল আলামিন: বিশ্ব মানবতার চরম সংকটে মহানবী (সা.)-এর চিরন্তন কালজয়ী আদর্শ

রহমাতুল্লিল আলামিন: বিশ্ব মানবতার চরম সংকটে মহানবী (সা.)-এর চিরন্তন কালজয়ী আদর্শ
ছবি: সংগৃহীত

সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতি মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত অনুগ্রহের প্রস্ফুটিত রূপ হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। তিনি কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা, সম্প্রদায় বা গোত্রের জন্য প্রেরিত হননি,বরং সমগ্র সৃষ্টিজগতের ওপর অফুরান রহমত ও শুভ বার্তা নিয়ে ধরণিতে তাঁর আগমন ঘটেছিল।

বর্তমান যুদ্ধবিধ্বস্ত, বর্ণবাদী ও বৈষম্যপীড়িত পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনদর্শন ও সুমহান উদারতা নতুন করে অনুসরণের তাগিদ তৈরি করছে।

যে যুগে আরবের সমাজব্যবস্থা হিংসা, অমানবিকতা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, সেখান থেকেই ইনসাফ ও দয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনি। নিজের জীবনে সীমাহীন অত্যাচার সহ্য করেও প্রতিশোধের বিপরীতে ক্ষমার পথ বেছে নিয়েছিলেন মহানবী (সা.)। তায়েফের রক্তঝরা ময়দানে কঠিন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি নিপীড়কদের বিনাশ চাননি; বরং তাদের অনাগত প্রজন্মের হেদায়েতের জন্য আর্জি জানিয়ে অসীম ধৈর্যের পরিচয় দেন।

একইভাবে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিনে সুদীর্ঘকালের চরম শত্রুদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—আসল বিজয় অহংকারে নয়, বরং মহানুভবতা ও উদারতায়।

বিদায় হজের ভাষণে বংশীয় অহংকার ও বর্ণবাদের মূল উৎপাটন করে তিনি ঘোষণা করেন, মানুষের আসল শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর চরিত্রে ও খোদাভীতিতে; গায়ের রঙ বা ধনসম্পদে নয়। ক্রীতদাস প্রথার প্রথা ভেঙে হজরত বিলাল (রা.)-কে সামাজিক উচ্চমর্যাদা প্রদান করে তিনি বর্ণবাদহীন সমাজের বাস্তব নজির রেখে গেছেন।

শুধু মানবজাতিই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য ও অবোলা পশুপাখির সুরক্ষাতেও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা যুগান্তকারী। যুদ্ধক্ষেত্রেও বৃক্ষনিধন, নিরপরাধ নাগরিক বা উপাসনালয়ে হামলার ওপর তাঁর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই প্রাপ্য পরিশোধ করা কিংবা অবোলা প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার তাগিদ প্রমাণ করে—তিনি ছিলেন সমস্ত সৃষ্টির জন্য পরম মমতার প্রতীক।

আজকের চরম সংকটাপন্ন ও বিভাজিত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর প্রদর্শিত এই সুষম বণ্টন, ইনসাফ ও উদারতার চর্চাই কেবল পারে মানবজাতিকে টেকসই শান্তির দিশা দিতে।

বিষয় : ইসলাম ধর্ম ও জীবন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


রহমাতুল্লিল আলামিন: বিশ্ব মানবতার চরম সংকটে মহানবী (সা.)-এর চিরন্তন কালজয়ী আদর্শ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতি মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত অনুগ্রহের প্রস্ফুটিত রূপ হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। তিনি কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা, সম্প্রদায় বা গোত্রের জন্য প্রেরিত হননি,বরং সমগ্র সৃষ্টিজগতের ওপর অফুরান রহমত ও শুভ বার্তা নিয়ে ধরণিতে তাঁর আগমন ঘটেছিল।

বর্তমান যুদ্ধবিধ্বস্ত, বর্ণবাদী ও বৈষম্যপীড়িত পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনদর্শন ও সুমহান উদারতা নতুন করে অনুসরণের তাগিদ তৈরি করছে।

যে যুগে আরবের সমাজব্যবস্থা হিংসা, অমানবিকতা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, সেখান থেকেই ইনসাফ ও দয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনি। নিজের জীবনে সীমাহীন অত্যাচার সহ্য করেও প্রতিশোধের বিপরীতে ক্ষমার পথ বেছে নিয়েছিলেন মহানবী (সা.)। তায়েফের রক্তঝরা ময়দানে কঠিন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি নিপীড়কদের বিনাশ চাননি; বরং তাদের অনাগত প্রজন্মের হেদায়েতের জন্য আর্জি জানিয়ে অসীম ধৈর্যের পরিচয় দেন।

একইভাবে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিনে সুদীর্ঘকালের চরম শত্রুদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—আসল বিজয় অহংকারে নয়, বরং মহানুভবতা ও উদারতায়।

বিদায় হজের ভাষণে বংশীয় অহংকার ও বর্ণবাদের মূল উৎপাটন করে তিনি ঘোষণা করেন, মানুষের আসল শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর চরিত্রে ও খোদাভীতিতে; গায়ের রঙ বা ধনসম্পদে নয়। ক্রীতদাস প্রথার প্রথা ভেঙে হজরত বিলাল (রা.)-কে সামাজিক উচ্চমর্যাদা প্রদান করে তিনি বর্ণবাদহীন সমাজের বাস্তব নজির রেখে গেছেন।

শুধু মানবজাতিই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য ও অবোলা পশুপাখির সুরক্ষাতেও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা যুগান্তকারী। যুদ্ধক্ষেত্রেও বৃক্ষনিধন, নিরপরাধ নাগরিক বা উপাসনালয়ে হামলার ওপর তাঁর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই প্রাপ্য পরিশোধ করা কিংবা অবোলা প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার তাগিদ প্রমাণ করে—তিনি ছিলেন সমস্ত সৃষ্টির জন্য পরম মমতার প্রতীক।

আজকের চরম সংকটাপন্ন ও বিভাজিত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর প্রদর্শিত এই সুষম বণ্টন, ইনসাফ ও উদারতার চর্চাই কেবল পারে মানবজাতিকে টেকসই শান্তির দিশা দিতে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো