রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকায় টানা চৌদ্দ দিন ধরে চলমান অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি জনপদের এই দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের ফলে খাদ্যপণ্যের তীব্র ঘাটতি, কৃষি ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধস এবং স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বুধবারও সাজেক সড়কে কোনো ধরনের দূরপাল্লার যান চলাচল করেনি। টানা অবরোধের কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক সামগ্রীর মারাত্মক শূন্যতা দেখা দিয়েছে। সাজেকের জুমচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে না পারায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি, পর্যটন সেবা খাতের সঙ্গে জড়িত গাড়িচালক ও কর্মচারীদের আয় পুরোপুরি বন্ধ থাকায় তাঁদের ব্যাংক ঋণ ও কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে ৪ ও ৫ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবির মধ্যে আংশিক সমঝোতা হলেও মূল বিরোধের সুরাহা না হওয়ায় এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তবে চতুর্থ দফা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যটন, পরিবহন ও সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও কৃষিপণ্যবাহী গাড়ি, শিক্ষার্থী বহনকারী যানবাহন, জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ সরবরাহের গাড়ি, ধর্মীয় ও বিবাহ অনুষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের যানবাহন এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ সভায় এই শিথিলতার ঘোষণা দিলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত ১ নভেম্বর একদিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও ২ নভেম্বর থেকে পুনরায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেএসএস-এর সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মতপার্থক্যের কারণে পক্ষগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বর্তমানে পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির রাহুল চাকমা জানান, পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতে এই অবরোধের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাজেক এলাকায় বর্তমানে ১১৬টির বেশি রিসোর্ট, ১৪টি রেস্তোরাঁ ও শতাধিক দোকান রয়েছে, যা পর্যটকশূন্যতার কারণে এখন পুরোপুরি স্থবির।
পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতে এই অবরোধের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাজেক এলাকায় বর্তমানে ১১৬টির বেশি রিসোর্ট, ১৪টি রেস্তোরাঁ ও শতাধিক দোকান রয়েছে, যা পর্যটকশূন্যতার কারণে এখন পুরোপুরি স্থবির।
টানা অবরোধের কারণে বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা ও শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান জৌপেইথাং ত্রিপুরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের মজুত খাবার ফুরিয়ে আসছে। কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে না পারায় গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের সময় বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও অল্প পরিসরে কিছু অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তবে দ্রুত কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমাধান না এলে সাজেকের বাসিন্দা, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের এই মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকায় টানা চৌদ্দ দিন ধরে চলমান অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি জনপদের এই দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের ফলে খাদ্যপণ্যের তীব্র ঘাটতি, কৃষি ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধস এবং স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলেছে।
বুধবারও সাজেক সড়কে কোনো ধরনের দূরপাল্লার যান চলাচল করেনি। টানা অবরোধের কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক সামগ্রীর মারাত্মক শূন্যতা দেখা দিয়েছে। সাজেকের জুমচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে না পারায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি, পর্যটন সেবা খাতের সঙ্গে জড়িত গাড়িচালক ও কর্মচারীদের আয় পুরোপুরি বন্ধ থাকায় তাঁদের ব্যাংক ঋণ ও কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে ৪ ও ৫ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবির মধ্যে আংশিক সমঝোতা হলেও মূল বিরোধের সুরাহা না হওয়ায় এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তবে চতুর্থ দফা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যটন, পরিবহন ও সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও কৃষিপণ্যবাহী গাড়ি, শিক্ষার্থী বহনকারী যানবাহন, জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ সরবরাহের গাড়ি, ধর্মীয় ও বিবাহ অনুষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের যানবাহন এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ সভায় এই শিথিলতার ঘোষণা দিলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত ১ নভেম্বর একদিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও ২ নভেম্বর থেকে পুনরায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেএসএস-এর সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মতপার্থক্যের কারণে পক্ষগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বর্তমানে পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির রাহুল চাকমা জানান, পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতে এই অবরোধের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাজেক এলাকায় বর্তমানে ১১৬টির বেশি রিসোর্ট, ১৪টি রেস্তোরাঁ ও শতাধিক দোকান রয়েছে, যা পর্যটকশূন্যতার কারণে এখন পুরোপুরি স্থবির।
পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতে এই অবরোধের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাজেক এলাকায় বর্তমানে ১১৬টির বেশি রিসোর্ট, ১৪টি রেস্তোরাঁ ও শতাধিক দোকান রয়েছে, যা পর্যটকশূন্যতার কারণে এখন পুরোপুরি স্থবির।
টানা অবরোধের কারণে বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা ও শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান জৌপেইথাং ত্রিপুরা জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের মজুত খাবার ফুরিয়ে আসছে। কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে না পারায় গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের সময় বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও অল্প পরিসরে কিছু অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ রয়েছে। তবে দ্রুত কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমাধান না এলে সাজেকের বাসিন্দা, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের এই মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মতামত