মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মুকসুদপুরে ৩১৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ সভা

মুকসুদপুরে ৩১৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ সভা

রহমাতুল্লিল আলামিন: বিশ্ব মানবতার চরম সংকটে মহানবী (সা.)-এর চিরন্তন কালজয়ী আদর্শ

রহমাতুল্লিল আলামিন: বিশ্ব মানবতার চরম সংকটে মহানবী (সা.)-এর চিরন্তন কালজয়ী আদর্শ

কটিয়াদীতে শানে রেসালাত সম্মেলন, তাপদাহ উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লির ঢল

কটিয়াদীতে শানে রেসালাত সম্মেলন, তাপদাহ উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লির ঢল

মক্কায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ৩ প্রতিযোগীর বিশ্বজয়

মক্কায় আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ৩ প্রতিযোগীর বিশ্বজয়

সৎ ভাই-বোন ও ভাতিজা কার অধিকার কতটুকু? ফারায়েজ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম হিসাব ও বিভ্রান্তি

সৎ ভাই-বোন ও ভাতিজা কার অধিকার কতটুকু? ফারায়েজ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম হিসাব ও বিভ্রান্তি

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের ৩ প্যাকেজ ঘোষণা, সর্বনিম্ন ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের ৩ প্যাকেজ ঘোষণা, সর্বনিম্ন ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা

পিরামিড ও গির্জার দেশে মিনারের আলো: মেক্সিকোতে ইসলামের নীরব জাগরণ

পিরামিড ও গির্জার দেশে মিনারের আলো: মেক্সিকোতে ইসলামের নীরব জাগরণ

খোদাভীতি ও জবাবদিহিতা: হযরত ওমর (রাঃ)-এর অর্থব্যবস্থা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নীতি!

খোদাভীতি ও জবাবদিহিতা: হযরত ওমর (রাঃ)-এর অর্থব্যবস্থা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নীতি!

ইসলাম

জুমার দিন: ফজিলত, তাৎপর্য ও গুরুত্বপূর্ণ আমল

জুমার দিন: ফজিলত, তাৎপর্য ও গুরুত্বপূর্ণ আমল

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক উৎসবের দিন হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র এই দিন ও রাতের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, অনেক মুসলিম একে “গরিবের ঈদ” বলেও উল্লেখ করেন। 

জুমার দিনকে কেন্দ্র করে রয়েছে অসংখ্য ফজিলত, গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং দোয়া কবুলের বিশেষ সময়।

জুমায় আগে আসার ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন ফেরেশতারা মসজিদের প্রবেশদ্বারে অবস্থান করে আগত মুসল্লিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। যে ব্যক্তি সবার আগে আসে, সে যেন একটি উট সদকা করার সওয়াব পায়। এরপর যারা আসে তারা যথাক্রমে গরু, মুরগি এবং ডিম সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে। তবে ইমাম খুতবা দিতে শুরু করলে ফেরেশতারা তাদের রেকর্ড বন্ধ করে মনোযোগসহ খুতবা শ্রবণ করেন। (সহিহ বুখারি: ৮৮২)

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

হাদিসে বর্ণিত আছে, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করে, তা কবুল করা হয়। (সহিহ বুখারি: ৬৪০০)

অন্য বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, এই বিশেষ সময়টি আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা, তিরমিজি)

সুরা কাহফ তিলাওয়াতের ফজিলত

জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর (আলোকিত পথ) প্রদান করা হবে।

হজরত আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠকারী ব্যক্তি আট দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। এমনকি দাজ্জালের ফেতনা থেকেও সে রক্ষা পাবে।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত তার গোনাহ মাফ হয়ে যায়। তবে এখানে ছোট গোনাহ (সগিরা) বোঝানো হয়েছে; বড় গোনাহ (কবিরা) তাওবা ছাড়া মাফ হয় না—এ বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে।

পুরো সুরা পাঠ করা সম্ভব না হলে, অন্তত প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করলেও এই ফজিলতের অংশ লাভ করা যায়।

কুরআনের নির্দেশনা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা পরিত্যাগ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করো। নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান করো, আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সুরা জুমা: ৯-১০)

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

হাদিসের আলোকে জুমার দিনে কিছু বিশেষ আমল পালন করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ—

1. গোসল করা

2. ফজরের ফরজ নামাজে সূরা সাজদা ও সূরা দাহর (ইনসান) তিলাওয়াত করা

3. পরিচ্ছন্ন ও উত্তম পোশাক পরিধান করা

4. সুগন্ধি ব্যবহার করা

5. আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া

6. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা

7. সারাদিন বেশি বেশি দরূদ শরিফ পাঠ করা

8. মসজিদে গিয়ে অন্তত দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করা

9. ইমামের কাছাকাছি বসা

10. দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া করা

11. অন্যান্য সময়েও বেশি বেশি দোয়া করা

12. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং এ সময় কোনো কথা না বলা


জুমার দিন মুসলিম জীবনে এক বিশেষ রহমত ও বরকতের দিন। এই দিনে ইবাদত, দোয়া ও সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত জুমার দিনের ফজিলত অনুধাবন করে যথাযথভাবে আমল করা।

বিষয় : জুমু আ ফযিলত ও গুরুত্ব

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


জুমার দিন: ফজিলত, তাৎপর্য ও গুরুত্বপূর্ণ আমল

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। এটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক উৎসবের দিন হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র এই দিন ও রাতের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, অনেক মুসলিম একে “গরিবের ঈদ” বলেও উল্লেখ করেন। 


জুমার দিনকে কেন্দ্র করে রয়েছে অসংখ্য ফজিলত, গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং দোয়া কবুলের বিশেষ সময়।

জুমায় আগে আসার ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন ফেরেশতারা মসজিদের প্রবেশদ্বারে অবস্থান করে আগত মুসল্লিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। যে ব্যক্তি সবার আগে আসে, সে যেন একটি উট সদকা করার সওয়াব পায়। এরপর যারা আসে তারা যথাক্রমে গরু, মুরগি এবং ডিম সদকা করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে। তবে ইমাম খুতবা দিতে শুরু করলে ফেরেশতারা তাদের রেকর্ড বন্ধ করে মনোযোগসহ খুতবা শ্রবণ করেন। (সহিহ বুখারি: ৮৮২)

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

হাদিসে বর্ণিত আছে, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করে, তা কবুল করা হয়। (সহিহ বুখারি: ৬৪০০)

অন্য বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, এই বিশেষ সময়টি আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা, তিরমিজি)

সুরা কাহফ তিলাওয়াতের ফজিলত

জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর (আলোকিত পথ) প্রদান করা হবে।

হজরত আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠকারী ব্যক্তি আট দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। এমনকি দাজ্জালের ফেতনা থেকেও সে রক্ষা পাবে।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত তার গোনাহ মাফ হয়ে যায়। তবে এখানে ছোট গোনাহ (সগিরা) বোঝানো হয়েছে; বড় গোনাহ (কবিরা) তাওবা ছাড়া মাফ হয় না—এ বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে।

পুরো সুরা পাঠ করা সম্ভব না হলে, অন্তত প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করলেও এই ফজিলতের অংশ লাভ করা যায়।

কুরআনের নির্দেশনা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা পরিত্যাগ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করো। নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান করো, আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সুরা জুমা: ৯-১০)

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

হাদিসের আলোকে জুমার দিনে কিছু বিশেষ আমল পালন করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ—

1. গোসল করা

2. ফজরের ফরজ নামাজে সূরা সাজদা ও সূরা দাহর (ইনসান) তিলাওয়াত করা

3. পরিচ্ছন্ন ও উত্তম পোশাক পরিধান করা

4. সুগন্ধি ব্যবহার করা

5. আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া

6. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা

7. সারাদিন বেশি বেশি দরূদ শরিফ পাঠ করা

8. মসজিদে গিয়ে অন্তত দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করা

9. ইমামের কাছাকাছি বসা

10. দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া করা

11. অন্যান্য সময়েও বেশি বেশি দোয়া করা

12. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং এ সময় কোনো কথা না বলা


জুমার দিন মুসলিম জীবনে এক বিশেষ রহমত ও বরকতের দিন। এই দিনে ইবাদত, দোয়া ও সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত জুমার দিনের ফজিলত অনুধাবন করে যথাযথভাবে আমল করা।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো