ইসলামি চান্দ্রবর্ষের দশম মাস হলো শাওয়াল। এটি হজের তিন মাস—শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম মাস হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ইবাদত ও নেক আমলের জন্য এই মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এক বর্ণনায় এসেছে, প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—আল্লাহ তাআলা শাওয়াল মাসের ছয় দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তাই এই মাসে ছয় দিন রোজা রাখলে প্রতিটি সৃষ্ট জীবের সংখ্যার সমপরিমাণ নেকি আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে, গুনাহ মাফ করা হবে এবং আখিরাতে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পালন করে এবং শাওয়ালে আরও ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন পুরো বছরই রোজা রাখল।” (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)। এই ছয়টি রোজা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত হলেও পরিভাষায় তা নফল রোজা; কারণ এগুলো ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং অতিরিক্ত ইবাদত।
রমজানের রোজা কাজা করার বিষয়ে কোরআনুল কারিম–এ মহান আল্লাহ বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকলে সে অন্য সময়ে রোজা আদায় করবে।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)। অর্থাৎ অসুস্থতা, সফর কিংবা নারীদের ঋতুকালীন কারণে রোজা বাদ পড়লে তা পরবর্তীতে আদায় করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)–এর যুগে নারীরা ঋতুমতী হলে তাঁদের রোজা পরে কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজ কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না। (বুখারি ও মুসলিম; মিশকাত: ২০৩২)
রমজানের কাজা রোজা পরবর্তী রমজান আসার আগে যেকোনো সময় আদায় করা যায়। ফলে শাওয়াল মাসেও কাজা রোজা রাখা বৈধ। এমনকি হজরত আয়েশা (রা.)–এর আমল অনুযায়ী, শাওয়ালের ছয় রোজা কাজার আগে রাখা গেলেও আগে ফরজ রোজা আদায় করাই উত্তম বলে মত দিয়েছেন আলেমরা।
তবে কাজা ও নফল রোজার নিয়ত একসঙ্গে করা শরিয়তসম্মত নয়—এতে উভয়টি পূর্ণরূপে আদায় হয় না। এ ধরনের আমলের দৃষ্টান্ত নবী (সা.) বা সাহাবিদের মধ্যে পাওয়া যায় না।
চান্দ্রবর্ষে সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন হয়। ইসলামে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব কমপক্ষে দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। সে হিসেবে রমজানের ৩০ দিনের রোজা ৩০০ দিনের সমান সওয়াব এনে দেয়। বাকি দিনগুলোর সমপরিমাণ সওয়াব অর্জনের জন্য শাওয়ালের ছয়টি রোজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া শাওয়াল মাসে বিয়েশাদি করাও সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। হজরত আয়েশা (রা.)–এর বিয়ে এই মাসে, এক শুক্রবারে, মসজিদে নববি–তে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই শুক্রবার, জামে মসজিদ ও বড় সমাবেশে বিয়ে সম্পন্ন করাকে সুন্নত হিসেবে দেখা হয়।
সব মিলিয়ে শাওয়াল মাস ইবাদত, রোজা এবং গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমলের জন্য এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সময়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
ইসলামি চান্দ্রবর্ষের দশম মাস হলো শাওয়াল। এটি হজের তিন মাস—শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম মাস হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ইবাদত ও নেক আমলের জন্য এই মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এক বর্ণনায় এসেছে, প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—আল্লাহ তাআলা শাওয়াল মাসের ছয় দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তাই এই মাসে ছয় দিন রোজা রাখলে প্রতিটি সৃষ্ট জীবের সংখ্যার সমপরিমাণ নেকি আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে, গুনাহ মাফ করা হবে এবং আখিরাতে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পালন করে এবং শাওয়ালে আরও ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন পুরো বছরই রোজা রাখল।” (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)। এই ছয়টি রোজা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত হলেও পরিভাষায় তা নফল রোজা; কারণ এগুলো ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং অতিরিক্ত ইবাদত।
রমজানের রোজা কাজা করার বিষয়ে কোরআনুল কারিম–এ মহান আল্লাহ বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকলে সে অন্য সময়ে রোজা আদায় করবে।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)। অর্থাৎ অসুস্থতা, সফর কিংবা নারীদের ঋতুকালীন কারণে রোজা বাদ পড়লে তা পরবর্তীতে আদায় করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)–এর যুগে নারীরা ঋতুমতী হলে তাঁদের রোজা পরে কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজ কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না। (বুখারি ও মুসলিম; মিশকাত: ২০৩২)
রমজানের কাজা রোজা পরবর্তী রমজান আসার আগে যেকোনো সময় আদায় করা যায়। ফলে শাওয়াল মাসেও কাজা রোজা রাখা বৈধ। এমনকি হজরত আয়েশা (রা.)–এর আমল অনুযায়ী, শাওয়ালের ছয় রোজা কাজার আগে রাখা গেলেও আগে ফরজ রোজা আদায় করাই উত্তম বলে মত দিয়েছেন আলেমরা।
তবে কাজা ও নফল রোজার নিয়ত একসঙ্গে করা শরিয়তসম্মত নয়—এতে উভয়টি পূর্ণরূপে আদায় হয় না। এ ধরনের আমলের দৃষ্টান্ত নবী (সা.) বা সাহাবিদের মধ্যে পাওয়া যায় না।
চান্দ্রবর্ষে সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন হয়। ইসলামে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব কমপক্ষে দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। সে হিসেবে রমজানের ৩০ দিনের রোজা ৩০০ দিনের সমান সওয়াব এনে দেয়। বাকি দিনগুলোর সমপরিমাণ সওয়াব অর্জনের জন্য শাওয়ালের ছয়টি রোজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া শাওয়াল মাসে বিয়েশাদি করাও সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। হজরত আয়েশা (রা.)–এর বিয়ে এই মাসে, এক শুক্রবারে, মসজিদে নববি–তে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই শুক্রবার, জামে মসজিদ ও বড় সমাবেশে বিয়ে সম্পন্ন করাকে সুন্নত হিসেবে দেখা হয়।
সব মিলিয়ে শাওয়াল মাস ইবাদত, রোজা এবং গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমলের জন্য এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সময়।

আপনার মতামত লিখুন