ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যে দূরদর্শী নেতৃত্ব, আপসহীন প্রশাসনিক নীতি এবং কঠোর জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন, তা পৃথিবীতে এক অনন্য ও কালজয়ী অর্থব্যবস্থার জন্ম দিয়েছিল। তাঁর এই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মূল চালিকা শক্তি ছিল খোদাভীতি বা আল্লাহর ভয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, অন্তরে আল্লাহর ভয় না থাকলে উম্মাহর কাজে কখনো স্বচ্ছতা আসবে না এবং হাশরের ময়দানে পাকড়াও হওয়ার চিন্তা না থাকলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব নয়।
একবার খলিফা ওমর (রা.) প্রখ্যাত সাহাবি সালমান ফারসি (রা.)-এর কাছে জানতে চান, আমি রাজা, না খলিফা? সালমান (রা.) উত্তরে বলেন, আপনি রাষ্ট্র থেকে এক দিরহাম বা কমবেশি কর যা-ই আদায় করেন না কেন, তা যদি ঠিক খাতে খরচ না করেন, তবে আপনি খলিফা নন, রাজা। এ কথা শুনে মহান এই খলিফা কেঁদে ফেলেন। আর এই জবাবদিহির ভয়েই ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন এবং সাধারণ জীবনযাপন করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ‘আমি ওমরকে চৌদ্দটি তালিবিশিষ্ট কোমরবন্ধনী পরতে দেখেছি, যার কোনো কোনো তালি ছিল চামড়ার। তাঁর শরীরে কখনো রাজকীয় জামা বা আলখাল্লা থাকত না।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শোষণহীন অর্থনীতি সচল রাখতে ওমর (রা.) কেন্দ্রীয় কোষাগার বা বায়তুল মালের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কর ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনিমত) যথাযথ বণ্টন এবং জনগণের অর্থ সঠিকভাবে খরচ করার বিষয়ে তিনি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।
কঠোর নজরদারি: দূরদূরান্তের মুসলিম এলাকার জন্য তিনি যোগ্যতম লোকদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিতেন এবং তাঁদের কর্মকাণ্ডে কড়া নজর রাখতেন।
পুরস্কার ও শাস্তি: সৎ ও দায়িত্বশীলদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতিতে ধরা পড়লে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেন।
সেনাবাহিনীর আর্থিক নিরাপত্তা: যুদ্ধের মাঠে থাকা সেনাদের পরিবার-পরিজনের সার্বিক দায়িত্ব খলিফা নিজে তদারকি করতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করতেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যকে সততা ও আমানতদারির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে ওমর (রা.) একটি কঠোর ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। মদিনার বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং লেনদেন শরিয়তসম্মত হচ্ছে কি না, তা দেখভালের জন্য তিনি সাইব ইবনে ইয়াজিদ ও আবদুল্লাহ ইবনে উতবা (রা.)–সহ একটি দক্ষ দলকে বাজার পরিদর্শক ও তদারককারী হিসেবে নিয়োগ দেন।
তিনি নিজেও নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণে বের হতেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, পাগড়ি মাথায়, লাঠি বা চাবুক হাতে তিনি মদিনার বাজারে বাজারে হাঁটতেন এবং কোনো অপরাধী বা নিয়মভঙ্গকারী দেখলে তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতেন।
তিনি পণ্যের ন্যায্য দাম নির্ধারণের ব্যাপারেও কঠোর তাগিদ দিতেন। একবার এক ব্যবসায়ী জয়তুন (অলিভ) তেল কিনে এনে তা বাজারে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি করতে চাইলেন। ওমর (রা.) তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, স্বাভাবিক দামে বিক্রি করো, নয়তো আমাদের বাজার থেকে বের হয়ে যাও। কারণ, আমরা এই দামে (অতিরিক্ত মূল্যে) বিক্রি করতে দেব না।
হজরত ওমর (রা.)-এর আমলে বাজারে ব্যবসা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও ধর্মীয় যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ছিল। যারা শরিয়তের বেচাকেনার নীতিমালা ও হালাল-হারামের পার্থক্য সম্পর্কে পুরোপুরি অভিজ্ঞ, শুধু তারাই বাজারে ব্যবসার অনুমতি পেত। তিনি বাজারে টহল দেওয়ার সময় ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বলতেন:
সুদ কী, তা না জেনে কেউ যেন বাজারে ব্যবসা করতে না আসে। ইসলামি আইন সম্পর্কে যারা অজ্ঞ, তারা আমাদের বাজারে ব্যবসা করতে আসবে না,কারণ এতে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সে সুদ খেয়ে বসবে।
একবার মালিক ইবনে আওস বাজারে স্বর্ণমুদ্রার বদলে রুপার মুদ্রা খুঁজছিলেন। তখন তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) বললেন, আপনার স্বর্ণমুদ্রা দিন, পরে এসে আমাদের খাদেমের কাছ থেকে রুপার মুদ্রা নিয়ে যাবেন। খলিফা ওমর (রা.) এই ঘটনা দেখে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে বললেন, না, আল্লাহর কসম, আপনি তার রুপার মুদ্রা এখনই দিয়ে দিন, নয়তো তার স্বর্ণ ফেরত দিন।’কারণ হিসেবে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন যে— হাতে হাতে নগদ বদল না হলে স্বর্ণ-রুপা বা খাদ্যের এই বিনিময় সুদে পরিণত হয়।
ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম পণ্য মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার প্রবণতা রোধেও তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, আমাদের বাজারে কেউ যেন পণ্য মজুত করে না রাখে। যাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আছে, তারা যেন বহিরাগত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সব খাদ্যশস্য কিনে তা মজুত করে না রাখে।
তবে তিনি আমদানিকারক ও বাইরে থেকে আসা সৎ ব্যবসায়ীদের বেশ মূল্যায়ন করতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি শীত-গ্রীষ্মের কষ্ট সহ্য করে আমাদের দেশে খাদ্যশস্য নিয়ে আসে, সে ওমরের মেহমান। অতএব সে তার আমদানি করা খাদ্যশস্য যে পরিমাণে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারবে, আর যে পরিমাণে ইচ্ছা রেখে দিতে পারবে।
হজরত ওমর (রা.) জনগণকে অলসতা পরিহার করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত করতেন। তিনি দুস্থদের উদ্দেশ্যে বলতেন, হে দুস্থের দল, মাথা তোলো। ব্যবসা করো। পথ উন্মুক্ত, মানুষের ওপর বোঝা হয়ো না।তিনি অলস বসে থাকা মানুষদের বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে বলতেন :
আকাশ থেকে সোনা-রুপার বৃষ্টি ঝরে না বরং আল্লাহ মানুষের এক হাতের মাধ্যমে অন্য হাতকে রুজি দিয়ে থাকেন।
কোনো সুস্থ যুবককে বেকার বসে থাকতে দেখলে তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ হতেন এবং বলতেন, সে আমার দৃষ্টি থেকে ঝরে গেছে।’রিজিক অন্বেষণকে তিনি এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জিহাদের ময়দান ছাড়া জীবিকার প্রয়োজনে ভ্রমণরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করাকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের ও মর্যাদার মনে করতেন।
আজকের আধুনিক অর্থনৈতিক মন্দা, বাজার সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় হজরত ওমর (রা.)-এর এই চৌকস ও খোদাভীতিপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতি সারাবিশ্বের জন্য একটি অনন্য অনুস্মরণীয় মডেল।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যে দূরদর্শী নেতৃত্ব, আপসহীন প্রশাসনিক নীতি এবং কঠোর জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন, তা পৃথিবীতে এক অনন্য ও কালজয়ী অর্থব্যবস্থার জন্ম দিয়েছিল। তাঁর এই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মূল চালিকা শক্তি ছিল খোদাভীতি বা আল্লাহর ভয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, অন্তরে আল্লাহর ভয় না থাকলে উম্মাহর কাজে কখনো স্বচ্ছতা আসবে না এবং হাশরের ময়দানে পাকড়াও হওয়ার চিন্তা না থাকলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব নয়।
একবার খলিফা ওমর (রা.) প্রখ্যাত সাহাবি সালমান ফারসি (রা.)-এর কাছে জানতে চান, আমি রাজা, না খলিফা? সালমান (রা.) উত্তরে বলেন, আপনি রাষ্ট্র থেকে এক দিরহাম বা কমবেশি কর যা-ই আদায় করেন না কেন, তা যদি ঠিক খাতে খরচ না করেন, তবে আপনি খলিফা নন, রাজা। এ কথা শুনে মহান এই খলিফা কেঁদে ফেলেন। আর এই জবাবদিহির ভয়েই ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন এবং সাধারণ জীবনযাপন করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ‘আমি ওমরকে চৌদ্দটি তালিবিশিষ্ট কোমরবন্ধনী পরতে দেখেছি, যার কোনো কোনো তালি ছিল চামড়ার। তাঁর শরীরে কখনো রাজকীয় জামা বা আলখাল্লা থাকত না।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শোষণহীন অর্থনীতি সচল রাখতে ওমর (রা.) কেন্দ্রীয় কোষাগার বা বায়তুল মালের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কর ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনিমত) যথাযথ বণ্টন এবং জনগণের অর্থ সঠিকভাবে খরচ করার বিষয়ে তিনি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।
কঠোর নজরদারি: দূরদূরান্তের মুসলিম এলাকার জন্য তিনি যোগ্যতম লোকদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিতেন এবং তাঁদের কর্মকাণ্ডে কড়া নজর রাখতেন।
পুরস্কার ও শাস্তি: সৎ ও দায়িত্বশীলদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতিতে ধরা পড়লে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেন।
সেনাবাহিনীর আর্থিক নিরাপত্তা: যুদ্ধের মাঠে থাকা সেনাদের পরিবার-পরিজনের সার্বিক দায়িত্ব খলিফা নিজে তদারকি করতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করতেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যকে সততা ও আমানতদারির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে ওমর (রা.) একটি কঠোর ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। মদিনার বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং লেনদেন শরিয়তসম্মত হচ্ছে কি না, তা দেখভালের জন্য তিনি সাইব ইবনে ইয়াজিদ ও আবদুল্লাহ ইবনে উতবা (রা.)–সহ একটি দক্ষ দলকে বাজার পরিদর্শক ও তদারককারী হিসেবে নিয়োগ দেন।
তিনি নিজেও নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণে বের হতেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, পাগড়ি মাথায়, লাঠি বা চাবুক হাতে তিনি মদিনার বাজারে বাজারে হাঁটতেন এবং কোনো অপরাধী বা নিয়মভঙ্গকারী দেখলে তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতেন।
তিনি পণ্যের ন্যায্য দাম নির্ধারণের ব্যাপারেও কঠোর তাগিদ দিতেন। একবার এক ব্যবসায়ী জয়তুন (অলিভ) তেল কিনে এনে তা বাজারে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি করতে চাইলেন। ওমর (রা.) তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, স্বাভাবিক দামে বিক্রি করো, নয়তো আমাদের বাজার থেকে বের হয়ে যাও। কারণ, আমরা এই দামে (অতিরিক্ত মূল্যে) বিক্রি করতে দেব না।
হজরত ওমর (রা.)-এর আমলে বাজারে ব্যবসা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও ধর্মীয় যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ছিল। যারা শরিয়তের বেচাকেনার নীতিমালা ও হালাল-হারামের পার্থক্য সম্পর্কে পুরোপুরি অভিজ্ঞ, শুধু তারাই বাজারে ব্যবসার অনুমতি পেত। তিনি বাজারে টহল দেওয়ার সময় ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বলতেন:
সুদ কী, তা না জেনে কেউ যেন বাজারে ব্যবসা করতে না আসে। ইসলামি আইন সম্পর্কে যারা অজ্ঞ, তারা আমাদের বাজারে ব্যবসা করতে আসবে না,কারণ এতে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সে সুদ খেয়ে বসবে।
একবার মালিক ইবনে আওস বাজারে স্বর্ণমুদ্রার বদলে রুপার মুদ্রা খুঁজছিলেন। তখন তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) বললেন, আপনার স্বর্ণমুদ্রা দিন, পরে এসে আমাদের খাদেমের কাছ থেকে রুপার মুদ্রা নিয়ে যাবেন। খলিফা ওমর (রা.) এই ঘটনা দেখে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে বললেন, না, আল্লাহর কসম, আপনি তার রুপার মুদ্রা এখনই দিয়ে দিন, নয়তো তার স্বর্ণ ফেরত দিন।’কারণ হিসেবে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন যে— হাতে হাতে নগদ বদল না হলে স্বর্ণ-রুপা বা খাদ্যের এই বিনিময় সুদে পরিণত হয়।
ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম পণ্য মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার প্রবণতা রোধেও তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, আমাদের বাজারে কেউ যেন পণ্য মজুত করে না রাখে। যাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আছে, তারা যেন বহিরাগত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সব খাদ্যশস্য কিনে তা মজুত করে না রাখে।
তবে তিনি আমদানিকারক ও বাইরে থেকে আসা সৎ ব্যবসায়ীদের বেশ মূল্যায়ন করতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি শীত-গ্রীষ্মের কষ্ট সহ্য করে আমাদের দেশে খাদ্যশস্য নিয়ে আসে, সে ওমরের মেহমান। অতএব সে তার আমদানি করা খাদ্যশস্য যে পরিমাণে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারবে, আর যে পরিমাণে ইচ্ছা রেখে দিতে পারবে।
হজরত ওমর (রা.) জনগণকে অলসতা পরিহার করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত করতেন। তিনি দুস্থদের উদ্দেশ্যে বলতেন, হে দুস্থের দল, মাথা তোলো। ব্যবসা করো। পথ উন্মুক্ত, মানুষের ওপর বোঝা হয়ো না।তিনি অলস বসে থাকা মানুষদের বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে বলতেন :
আকাশ থেকে সোনা-রুপার বৃষ্টি ঝরে না বরং আল্লাহ মানুষের এক হাতের মাধ্যমে অন্য হাতকে রুজি দিয়ে থাকেন।
কোনো সুস্থ যুবককে বেকার বসে থাকতে দেখলে তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ হতেন এবং বলতেন, সে আমার দৃষ্টি থেকে ঝরে গেছে।’রিজিক অন্বেষণকে তিনি এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জিহাদের ময়দান ছাড়া জীবিকার প্রয়োজনে ভ্রমণরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করাকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের ও মর্যাদার মনে করতেন।
আজকের আধুনিক অর্থনৈতিক মন্দা, বাজার সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় হজরত ওমর (রা.)-এর এই চৌকস ও খোদাভীতিপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতি সারাবিশ্বের জন্য একটি অনন্য অনুস্মরণীয় মডেল।

আপনার মতামত লিখুন