মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

সবকিছুর দাম বাড়ে, শুধু আয় বাড়ে না— বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধির ধাক্কায় দিশেহারা মধ্যবিত্ত!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অজুহাতে মাস দুয়েক আগে দুই দফায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর, এবার এক লাফে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। উপর্যুপরি এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে চরম বাড়তি খরচের চাপে থাকা সাধারণ মানুষ এখন আরও গভীর সংকটের মুখে পড়েছেন। সংসার চালানোর ব্যয় নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কায় সাধারণ মানুষের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুবুল হাসানের সঙ্গে। বিদ্যুতের দাম বাড়ার খবর শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের ঘাড়ে খরচের চাপটা আরও বাড়ল। বাসায় বিদ্যুৎ বিল আসে দুই হাজার টাকার মতো। এখন ৩০০-৪০০ টাকা বেশি লাগবে। এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বেশি। এখন ব্যবসায়ীরা আরেক দফা জিনিসের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেবে।তেজতুরী বাজারের বাসিন্দা ও আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী শাহ আলম শোনালেন তাঁর স্বপ্নভঙ্গের গল্প। তীব্র গরমে কিছুটা স্বস্তির আশায় আগামী মাসের বেতন পেয়ে এসি কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিদ্যুতের দাম বাড়ার খবরে হতাশ হয়ে তিনি বলেন, এসি কেনার চিন্তা তো বাদই দিলাম, সামনের দিনে এখন ফ্যানও হিসাব করে চালাতে হবে।মিরপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়েনি। বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার দায় কেন সাধারণ মানুষকে নিতে হবে?[TECHTARANGA-POST:799]বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তিন দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে এখন কিছুটা কমালেও তা সাধারণের সাধ্যের বাইরে। এর ওপর আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় জনজীবনে এর বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসেবার পরতে পরতে লুটপাট হচ্ছে। তাই এসব সেবার দাম না বাড়িয়ে বরং লুটপাট, চুরি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দরকার ছিল।বিদ্যুতের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু ব্যক্তি বা পারিবারিক জীবনেই নয়, দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতেও বড় ধরনের শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)।[TECHTARANGA-POST:798]এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময় থেকেই শিল্প খাত উচ্চ সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, চলতি মূলধনের অভাব ও নির্মাণ খাতের মন্দাসহ নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত। গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রায় ৩৬ শতাংশ, ডিমান্ড চার্জ ১২৫ শতাংশ এবং গ্যাসের মূল্য কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।বিএসএমএ আরও উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলেও দেশের বিদ্যুৎ ট্যারিফ কাঠামোতে তার কোনো প্রতিফলন নেই, যা একটি একমুখী নীতি। নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন ব্যয় বহু গুণ বেড়ে যাবে, যা দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে, কর্মসংস্থান ও শিল্প স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং চূড়ান্তভাবে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। তাই দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিদ্যুতের এই বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সবকিছুর দাম বাড়ে, শুধু আয় বাড়ে না— বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধির ধাক্কায় দিশেহারা মধ্যবিত্ত!