ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বেগবতী নদীর ওপর নির্মিত একমাত্র ছোট ব্রিজটি ভেঙে পড়ে রয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। দীর্ঘ এই সময়েও মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মহারাজপুর ও কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত ছয়টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। বাধ্য হয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে উত্তর ভবানীপুর ও ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মধ্যবর্তী সীমানায় অবস্থিত প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ এই ব্রিজটি ধসে পড়ে। এরপর থেকেই ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।বর্তমানে মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর, কুতুবপুর, পরমানন্দপুর, কুলবাড়িয়া এবং কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ডেফলবাড়িয়া গ্রামের অধিবাসীরা এই ভাঙা ব্রিজের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বাঁশের সাঁকো দিয়ে হেঁটে পার হওয়া সম্ভব হলেও কৃষিপণ্য পরিবহন ও দূরপাল্লার যাতায়াতে রোগীদের নিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে সাঁকোটি আরও বেশি বিপদজনক হয়ে ওঠে।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ডেফলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। আগে যেসব শিশু সহজেই স্কুলে পৌঁছাতে পারত, এখন তাদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে প্রায় দুই কিলোমিটারের অতিরিক্ত আঁকাবাঁকা পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে।স্থানীয় অধিবাসী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিজ না থাকায় ধানের বস্তা, পাটসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ডেফলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান শামীম জানান, তাঁর বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা জরুরি।[TECHTARANGA-POST:1276]জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ভেঙে পড়া ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি আলাদা প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যেকোনো একটি প্রকল্প অনুমোদিত হলেই দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু করা হবে।