মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

কবিতা

মায়াপরীর জন্য

মায়াপরীর জন্য
ছবি : সংগৃহীত

সেদিনও আমি ব্যস্ত ছিলাম—

ঢাকার ব্যস্ত শহর,

মানুষের ভিড়, হাজারো মুখ,

আর নিজের অজান্তেই

তোমাকে ভুলে থাকার অভিনয় করছিলাম।

তুমি তখন হয়তো

শাহবাগের কোনো এক নির্জন বিকেলে,

কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় দাঁড়িয়ে

আমার অপেক্ষা করছিলে।

আমি জানতাম না—

আমার জন্য কেউ একজন

এতটা সময় ধরে অপেক্ষা করতে পারে।

আমি তখন বাংলা একাডেমির বইমেলায়,

নতুন বইয়ের পাতায়

অচেনা মানুষদের জন্য

একটার পর একটা স্বাক্ষর দিয়ে যাচ্ছি।

আর তুমি—

অভিমান জমিয়ে

ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলে

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পথ ধরে।

হয়তো তোমার চোখে তখন

বৃষ্টির মতো কিছু একটা ছিল,

কিন্তু তুমি কাউকে দেখাওনি।

তুমি জানো মায়াপরী,

আমি যদি সেদিন একবারও

তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম,

তাহলে এত মানুষের ভিড়ের মাঝেও

তোমাকেই চিনে ফেলতাম।

তোমার নীল শাড়ি,

চুলে জড়িয়ে থাকা বাতাস,

আর সেই চুপ করে থাকা অভিমান—

সবকিছু পেরিয়ে

আমি শুধু তোমার কাছেই ফিরে আসতাম।

আজও যখন

ধানমন্ডি লেকের পাশে সন্ধ্যা নামে,

বাতাসে পুরোনো কোনো গান ভেসে আসে,

আমি অকারণে থেমে যাই।

মনে হয়—

এই বুঝি তুমি এসে বলবে,

এত দেরি করলে কেন?

আমি তখন হয়তো হাসব,

কিছুই বলতে পারব না।

শুধু তোমার হাতটা ধরে

চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকব।

কারণ কিছু ভালোবাসার

কোনো ব্যাখ্যা হয় না, মায়াপরী—

কিছু মানুষকে

শুধু ভালোবেসে যেতে হয়।

আর তুমি?

তুমি আমার কাছে

কোনো গল্পের চরিত্র নও—

তুমি সেই অসমাপ্ত গল্প,

যেটা আমি প্রতিদিন

নতুন করে লিখি।

নিজের হাতে,

নিজের ভাষায়,

শুধু তোমাকে ভেবে।

তাই যদি কোনোদিন

আমার লেখা কোনো কবিতায়

নিজেকে খুঁজে পাও—

জেনে নিও, মায়াপরী,

সেটা কবিতা নয়!

সেটা আমি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মায়াপরীর জন্য

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সেদিনও আমি ব্যস্ত ছিলাম—

ঢাকার ব্যস্ত শহর,

মানুষের ভিড়, হাজারো মুখ,

আর নিজের অজান্তেই

তোমাকে ভুলে থাকার অভিনয় করছিলাম।

তুমি তখন হয়তো

শাহবাগের কোনো এক নির্জন বিকেলে,

কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় দাঁড়িয়ে

আমার অপেক্ষা করছিলে।

আমি জানতাম না—

আমার জন্য কেউ একজন

এতটা সময় ধরে অপেক্ষা করতে পারে।

আমি তখন বাংলা একাডেমির বইমেলায়,

নতুন বইয়ের পাতায়

অচেনা মানুষদের জন্য

একটার পর একটা স্বাক্ষর দিয়ে যাচ্ছি।

আর তুমি—

অভিমান জমিয়ে

ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলে

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পথ ধরে।

হয়তো তোমার চোখে তখন

বৃষ্টির মতো কিছু একটা ছিল,

কিন্তু তুমি কাউকে দেখাওনি।

তুমি জানো মায়াপরী,

আমি যদি সেদিন একবারও

তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম,

তাহলে এত মানুষের ভিড়ের মাঝেও

তোমাকেই চিনে ফেলতাম।

তোমার নীল শাড়ি,

চুলে জড়িয়ে থাকা বাতাস,

আর সেই চুপ করে থাকা অভিমান—

সবকিছু পেরিয়ে

আমি শুধু তোমার কাছেই ফিরে আসতাম।

আজও যখন

ধানমন্ডি লেকের পাশে সন্ধ্যা নামে,

বাতাসে পুরোনো কোনো গান ভেসে আসে,

আমি অকারণে থেমে যাই।

মনে হয়—

এই বুঝি তুমি এসে বলবে,

এত দেরি করলে কেন?

আমি তখন হয়তো হাসব,

কিছুই বলতে পারব না।

শুধু তোমার হাতটা ধরে

চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকব।

কারণ কিছু ভালোবাসার

কোনো ব্যাখ্যা হয় না, মায়াপরী—

কিছু মানুষকে

শুধু ভালোবেসে যেতে হয়।

আর তুমি?

তুমি আমার কাছে

কোনো গল্পের চরিত্র নও—

তুমি সেই অসমাপ্ত গল্প,

যেটা আমি প্রতিদিন

নতুন করে লিখি।

নিজের হাতে,

নিজের ভাষায়,

শুধু তোমাকে ভেবে।

তাই যদি কোনোদিন

আমার লেখা কোনো কবিতায়

নিজেকে খুঁজে পাও—

জেনে নিও, মায়াপরী,

সেটা কবিতা নয়!

সেটা আমি।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো