মুকসুদপুর    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

গণমাধ্যম

দুর্গাপুরে চায়ের দোকান থেকে ফেরার পথে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

দুর্গাপুরে চায়ের দোকান থেকে ফেরার পথে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অনলাইন সংবাদকর্মী ও সাবেক সেনাসদস্য লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। চায়ের দোকান থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পথে তাকে অনুসরণ করে অত্যন্ত কাছ থেকে মাথা, গলা ও বুক লক্ষ্য করে পর পর অন্তত পাঁচটি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সুনই গ্রামের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ পরিচালনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি ইন্টারনেট প্রটোকল টিভি (আইপিটিভি) চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে শ্বশুরালয়ের অদূরেই একটি স্থানীয় চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার পর সিগারেট কিনে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন লুৎফুজ্জামান। এ সময় দুই অজ্ঞাত যুবক তাকে অনুসরণ করে নিভৃত গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় ঘিরে ধরে এবং খুব কাছ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহতের মাথা, পোঁট ও বুকে অন্তত পাঁচটি গুলির আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, সুপরিকল্পিতভাবেই তাকে অনুসরণ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আলিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্ত এলাকার অনিয়ম, চোরাচালান ও স্থানীয় অপরাধ নিয়ে অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তথ্যভিত্তিক লেখালেখি করতেন। এসব সংবেদনশীল লেখালেখির কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে জীবন ও নিরাপত্তার তীব্র ঝুঁকিতে ছিলেন। এমনকি গত বছরের নভেম্বরেও সোমেশ্বরী নদীর ঘাটে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে জানলেওয়া হামলা চালিয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আলিফের শ্বশুরবাড়িতে মাতম ছড়িয়ে পড়ে। তার শাশুড়ি ও স্ত্রী অশ্রুসজল চোখে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। লুৎফুজ্জামান আলিফের মুঠোফোনটি উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। কল রেকর্ড ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে সর্বশেষ তিনি কার সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং কী ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল তা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে একাধিক ইউনিট কাজ শুরু করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার প্রাপ্তিসাপেক্ষে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


দুর্গাপুরে চায়ের দোকান থেকে ফেরার পথে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অনলাইন সংবাদকর্মী ও সাবেক সেনাসদস্য লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। চায়ের দোকান থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পথে তাকে অনুসরণ করে অত্যন্ত কাছ থেকে মাথা, গলা ও বুক লক্ষ্য করে পর পর অন্তত পাঁচটি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সুনই গ্রামের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ পরিচালনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি ইন্টারনেট প্রটোকল টিভি (আইপিটিভি) চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে শ্বশুরালয়ের অদূরেই একটি স্থানীয় চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার পর সিগারেট কিনে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন লুৎফুজ্জামান। এ সময় দুই অজ্ঞাত যুবক তাকে অনুসরণ করে নিভৃত গ্রামীণ কাঁচা রাস্তায় ঘিরে ধরে এবং খুব কাছ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহতের মাথা, পোঁট ও বুকে অন্তত পাঁচটি গুলির আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, সুপরিকল্পিতভাবেই তাকে অনুসরণ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আলিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্ত এলাকার অনিয়ম, চোরাচালান ও স্থানীয় অপরাধ নিয়ে অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তথ্যভিত্তিক লেখালেখি করতেন। এসব সংবেদনশীল লেখালেখির কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে জীবন ও নিরাপত্তার তীব্র ঝুঁকিতে ছিলেন। এমনকি গত বছরের নভেম্বরেও সোমেশ্বরী নদীর ঘাটে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে জানলেওয়া হামলা চালিয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আলিফের শ্বশুরবাড়িতে মাতম ছড়িয়ে পড়ে। তার শাশুড়ি ও স্ত্রী অশ্রুসজল চোখে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। লুৎফুজ্জামান আলিফের মুঠোফোনটি উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। কল রেকর্ড ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে সর্বশেষ তিনি কার সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং কী ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল তা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে একাধিক ইউনিট কাজ শুরু করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার প্রাপ্তিসাপেক্ষে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো